ঢাকা     বুধবার   ০৭ জানুয়ারি ২০২৬ ||  পৌষ ২৩ ১৪৩২

Risingbd Online Bangla News Portal

ভেনেজুয়েলায় আক্রমণের ন্যায্যতা প্রমাণে যুক্তরাষ্ট্রের মনরো মতবাদ আসলে কী

আন্তর্জাতিক ডেস্ক || রাইজিংবিডি.কম

প্রকাশিত: ২০:৪৭, ৪ জানুয়ারি ২০২৬   আপডেট: ২০:৪৮, ৪ জানুয়ারি ২০২৬
ভেনেজুয়েলায় আক্রমণের ন্যায্যতা প্রমাণে যুক্তরাষ্ট্রের মনরো মতবাদ আসলে কী

মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প ভেনেজুয়েলার উপর আক্রমণ এবং ল্যাটিন আমেরিকায় ওয়াশিংটনের ইচ্ছা চাপিয়ে দেওয়ার ন্যায্যতা প্রমাণ করতে যুক্তরাষ্ট্রের উনবিংশ শতাব্দীর এক প্রেসিডেন্টের নীতির উদ্ধৃতি দিয়েছেন।

ট্রাম্প শনিবার মাদুরোর অপহরণের ঘটনায় যে অভিযান চালানো হয়েছিল তাকে মনরো মতবাদের একটি উন্নত সংস্করণ বলে অভিহিত করেছেন। এই মনরো মতবাদ পঞ্চম মার্কিন রাষ্ট্রপতি জেমস মনরোর ১৮২৩ সালের ঘোষণা ছিল। এই মনরো মতবাদ মূলত বিশ্বকে বিভিন্ন শক্তির মাধ্যমে পরিচালিত প্রভাবের ক্ষেত্রে বিভক্ত করার উপর জোর দিয়েছিল।

আরো পড়ুন:

মনরো প্রথম এই মতবাদের কথা ১৮২৩ সালের ২রা ডিসেম্বর কংগ্রেসে তার সপ্তম বার্ষিক স্টেট অফ দ্য ইউনিয়ন ভাষণে বলেছিলেন। তিনি ইউরোপীয় শক্তিগুলোকে আমেরিকার বিষয়ে হস্তক্ষেপ না করার জন্য সতর্ক করেছিলেন। তিনি জোর দিয়ে বলেছিলেন যে এই ধরণের যেকোনো পদক্ষেপকে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের উপর আক্রমণ হিসেবে দেখা হবে।

তিনি জানিয়েছিলেন, পশ্চিম গোলার্ধ এবং ইউরোপের বিষয়গুলো পৃথক থাকা উচিত এবং একে অপরকে প্রভাবিত করা উচিত নয়। এর বিনিময়ে তিনি প্রতিশ্রুতি দিয়েছিলেন যে আমেরিকা বিদ্যমান ইউরোপীয় উপনিবেশগুলোকে স্বীকৃতি দেবে বা ইউরোপীয় দেশগুলোর অভ্যন্তরীণ বিষয়ে হস্তক্ষেপ করবে না। তবে, উত্তর ও দক্ষিণ আমেরিকা আর কোনো ইউরোপীয় শক্তির মাধ্যমে ভবিষ্যতে উপনিবেশ স্থাপনের শিকার হবে না।

অনেক দিক থেকে, মনরো মতবাদ আমেরিকায় স্থিতাবস্থা বজায় রাখার উপর জোর দিয়েছিল কিন্তু তাদের থেকে ইউরোপীয়দের বিচ্ছিন্নতার নির্দেশও দিয়েছিল।

১৯০৪ সালে মনরো মতবাদে প্রেসিডেন্ট থিওডোর রুজভেল্ট তার নীতিমালা যুক্ত করেছিলেন। তাতে পশ্চিম গোলার্ধে স্থিতিশীলতা বজায় রাখতে এবং ওয়াশিংটনের স্বার্থ রক্ষা করতে ইউরোপীয় হস্তক্ষেপ, বিশেষ করে ঋণ বা অস্থিতিশীলতার বিষয়ে ল্যাটিন আমেরিকার দেশগুলোতে হস্তক্ষেপ করার মার্কিন অধিকার জোর দিয়েছিলেন। ওই বছর ইউরোপীয় ঋণদাতারা বেশ কয়েকটি ল্যাটিন আমেরিকান দেশকে হুমকি দিয়েছিল। তখন রুজভেল্ট এই মতবাদের সাথে সঙ্গতিপূর্ণভাবে জড়িত হওয়ার জন্য মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের অধিকার ও দায়িত্বের কথা বলেছিলেন।

১৯০২-১৯০৩ সালের ভেনেজুয়েলার সংকটের পরে যখন দেশটি তার বিদেশী ঋণ পরিশোধ করতে অস্বীকৃতি জানায়, তখন রুজভেল্ট নীতিমালাটি স্পষ্টভাবে প্রকাশ করা হয়েছিল।

পরবর্তী দশকগুলোতে বিকশিত মনরো মতবাদ ডমিনিকান প্রজাতন্ত্র, হাইতি ও নিকারাগুয়ায় মার্কিন হস্তক্ষেপের ন্যায্যতা হিসেবে কাজ করে।

১৯৮০-এর দশকে প্রেসিডেন্ট রোনাল্ড রিগ্যান এই অঞ্চলে আক্রমণাত্মক দৃষ্টিভঙ্গি অনুসরণ করেছিলেন। তার বিরোধীরা তাকে "সাম্রাজ্যবাদী" বলে অভিহিত করেছিলেন। নিকারাগুয়ায় তিনি স্যান্ডিনিস্তাদের বামপন্থী সরকারের বিরুদ্ধে ডানপন্থী কন্ট্রাদের সমর্থন করেছিলেন এবং ইরান-কন্ট্রা অস্ত্র পাচার কেলেঙ্কারিতে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রকে জড়িয়েছিলেন। তিনি এল সালভাদর ও গুয়াতেমালায় নৃশংসতার জন্য অভিযুক্ত ডানপন্থী সরকারগুলোকেও সমর্থন করেছিলেন।

ফিদেল কাস্ত্রোর বিপ্লবের পর থেকে কিউবা দীর্ঘদিন ধরে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের তীব্র চাপের মধ্যে রয়েছে। দেশটি সামরিক ও অর্থনৈতিক উভয় দিক থেকেই আজও অব্যাহত নিষেধাজ্ঞার অধীনে। ভেনেজুয়েলায় আধিপত্য বজায় রাখতে ২০১৩ সালে মাদুরোর পূর্বসূরী হুগো শ্যাভেজের মৃত্যুর আগে তার বিরুদ্ধে অভ্যুত্থান ঘটানোর চেষ্টাও করেছিল যুক্তরাষ্ট্র।

ঢাকা/শাহেদ

সম্পর্কিত বিষয়:

সর্বশেষ

পাঠকপ্রিয়