যুক্তরাষ্ট্র চলে গেলেই এই অঞ্চল বিশ্বের সবচেয়ে স্থিতিশীল হবে: ইরান
ইরানের সর্বোচ্চ জাতীয় নিরাপত্তা পরিষদের পররাষ্ট্র নীতি ও আন্তর্জাতিক নিরাপত্তা বিষয়ক উপ-সচিব আলী বাঘেরি
পশ্চিম এশিয়া থেকে যুক্তরাষ্ট্র তাদের সামরিক উপস্থিতি প্রত্যাহার করলে এই অঞ্চলটি বিশ্বের সবচেয়ে স্থিতিশীল ও সেরা অঞ্চলে পরিণত হবে বলে মন্তব্য করেছেন ইরানের সর্বোচ্চ জাতীয় নিরাপত্তা পরিষদের পররাষ্ট্র নীতি ও আন্তর্জাতিক নিরাপত্তা বিষয়ক উপ-সচিব আলী বাঘেরি।
বৃহস্পতিবার (২৮ মে) রাশিয়ার রাজধানী মস্কোতে নিরাপত্তা সংক্রান্ত উচ্চ প্রতিনিধিদের ১৪তম আন্তর্জাতিক বৈঠকের ফাঁকে ‘রাশিয়া টুডে’-কে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে তিনি এই মন্তব্য করেন। খবর ইরানি সংবাদমাধ্যম ওয়ানা নিউজের।
প্রতিবেশী দেশগুলোর সঙ্গে ইরানের কোনো মৌলিক বিরোধ নেই উল্লেখ করে বাঘেরি বলেন, “যদি যুক্তরাষ্ট্র এই অঞ্চল থেকে তাদের সামরিক ঘাঁটি গুটিয়ে নেয় এবং আঞ্চলিক বিষয়ে জায়নবাদীদের (ইসরায়েলীদের) হস্তক্ষেপ বন্ধ হয়, তাহলে এই অঞ্চলটি স্থিতিশীলতা, নিরাপত্তা ও শান্তি উপভোগ করবে। যা এই অঞ্চলের উন্নয়ন ও অগ্রগতির পথ সুগম করবে।”
বাঘেরি ইরানের বিরুদ্ধে সাম্প্রতিক মার্কিন-ইসরায়েলি যুদ্ধের কথা উল্লেখ করে দাবি করেন, “তেহরানের সঙ্গে আলোচনা চলাকালীন সময়েই ওয়াশিংটন ইরানের বিরুদ্ধে হামলা চালিয়েছে। আর এই কাজে তারা তাদের আঞ্চলিক সামরিক ঘাঁটিগুলো ব্যবহার করেছে।”
পাকিস্তানের মধ্যস্থতায় ইরান-মার্কিন আলোচনার বিষয়ে মন্তব্য করতে গিয়ে বাঘেরি বলেন, কূটনীতির ভবিষ্যৎ নির্ভর করছে ওয়াশিংটনের তথাকথিত ‘অতিরিক্ত দাবি’ প্রত্যাহার করার ওপর।
তিনি বলেন, “ভবিষ্যতের পথ তখনই সফল হতে পারে যখন আমেরিকানরা অতিরিক্ত দাবি খাটানো বন্ধ করবে।”
হরমুজ প্রণালির পরিস্থিতি উল্লেখ করে বাঘেরি বলেন, ইরান এই কৌশলগত জলপথকে দেশের জাতীয় নিরাপত্তার জন্য হুমকি হিসেবে ব্যবহার করতে দেবে না। তিনি উল্লেখ করেন, সাম্প্রতিক ঘটনাবলী প্রমাণ করেছে কীভাবে হরমুজ প্রণালি ইরানের বিরুদ্ধে হুমকির একটি রুট হয়ে উঠতে পারে। তিনি জোর দিয়ে বলেন, তেহরানের সার্বভৌমত্ব ও জাতীয় নিরাপত্তা রক্ষার জন্য প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নেওয়ার অধিকার রয়েছে।
বাঘেরি আরো যোগ করেন, ইরান হরমুজ প্রণালির অপর উপকূলীয় দেশ ওমানের সঙ্গে এই বিষয়ে যোগাযোগ রাখছে।
ইরানের এই শীর্ষ কর্মকর্তা মার্কিন পররাষ্ট্র নীতিরও সমালোচনা করেছেন। ওয়াশিংটনের ‘শক্তির মাধ্যমে শান্তি’ প্রতিষ্ঠার পদ্ধতিটিকে তিনি ‘সেকেলে’ ও ‘বর্বরতার যুগের’ বলে অভিহিত করেন।
তিনি বলেন, ইরান আলোচনা, সহযোগিতা ও কূটনীতির মাধ্যমে শান্তি অর্জনে বিশ্বাস করে; অন্যদিকে তিনি যুক্তরাষ্ট্রের বিরুদ্ধে সামরিক আগ্রাসন ও বলপ্রয়োগের ওপর নির্ভর করার অভিযোগ তোলেন।
সাক্ষাৎকারের শেষভাগে তিনি ইরানের মিনাব শহরের একটি স্কুলে মার্কিন হামলায় ১৬৮ জন শিশু নিহতের ঘটনা টেনে বলেন, “এই ঘটনাটি ইরানি জনগণ কখনো ভুলবে না এবং ক্ষমাও করবে না।”
ঢাকা/ফিরোজ
হামে আক্রান্ত-উপসর্গে আরো ৮ শিশুর মৃত্যু