কম্পিউটার সেবা কেন্দ্রে নান্দনিক পাঠাগার
অমরেশ দত্ত জয়, চাঁদপুর || রাইজিংবিডি.কম
বাইরে থেকে দেখা যায় ‘প্রিজম কম্পিউটার সেবা কেন্দ্র’। কিন্তু ভেতরে প্রবেশ করতেই চোখে পড়ে নান্দনিক পাঠাগার। নানা রকম জ্ঞান, বিজ্ঞান, সাহিত্য ও প্রযুক্তির বই থাকায় বিভিন্ন শ্রেণিপেশার মানুষ প্রতিদিনই পাঠাগারটিতে আসেন। চাঁদপুর পৌরসভার ৬নং ওয়ার্ডের জে. এম সেনগুপ্ত রোডে হয়েছে এই চমৎকার পাঠাগার।
সরেজমিনে গিয়ে জানা যায়, বই পড়ার আগ্রহকে কাজে লাগিয়ে নিজ ব্যবসা প্রতিষ্ঠানেই এমন পাঠাগার গড়ে তুলেছেন তরুণ উদ্যোক্তা হোসাইন রিটন। আর তাতেই নিয়মিত বই পড়ে জ্ঞানের আলো পাচ্ছেন এখানে কম্পিউটার সেবা গ্রহণ করতে আসা প্রশিক্ষণার্থীরা।
পাঠক চাঁদপুর মোহনবাঁশি স্মৃতি সংসদের প্রতিষ্ঠাতা সভাপতি অজিত দত্ত বলেন, মাঝে মাঝে যখন কাজ করতে এখানে আসি, তখন তাকে সাজানো বইগুলোর দিকে নজর যায়। এতে আকৃষ্ট হয়ে কাজের ফাঁকে ফাঁকেই বই পড়ি। আমার অজানা অনেক তথ্যই এখানে সংগৃহীত বই পড়ে জানতে পেরেছি।
মিজানুর রহমান নামের আরেক পাঠক বলেন, অনেক সময় প্রিজম কম্পিউটার সেবা কেন্দ্রে কাজ করতে আসা লোকের ভিড় লেগে যায়। তখন সময় কাটাতে বসে না থেকে নিজের বিরক্তিভাব দূর করতে এই পাঠাগারের বইগুলো পড়ি। আমাকে দারুণ অনুভূতি দেয়।
এদিকে পাঠাগারকে এগিয়ে নিতে অনেকেই বই উপহার দিচ্ছেন। তাদের মধ্যে চাঁদপুর বিল্ডার্স সোসাইটি'র হাসান সারোয়ার বলেন, সৃষ্টিশীল ও কল্যাণকর সব কাজে নিজেকে সম্পৃক্ত রাখি। তাই আমার সংগ্রহের বেশকিছু বই আমি প্রিজম পাঠাগারের পাঠকদের জন্য উপহার দেই। সমাজের অন্যরাও সহযোগিতায় এগিয়ে আসবে বলে প্রত্যাশা করছি।
প্রিজম পাঠাগার গড়ে তোলার নেপথ্যের কাহিনি সম্পর্কে প্রতিষ্ঠাতা হোসাইন রিটন বলেন, আমি নিজে অনেক বই পড়ি। তা সবার মাঝে ছড়িয়ে দেওয়ার মনোভাব থেকেই পাঠাগার প্রতিষ্ঠা করেছি। এতে আমার কেনা বইগুলো অন্যান্য পাঠকরা পড়ার সুযোগ পাচ্ছেন। বর্তমানে এই পাঠাগারে ২০/২৫ জন পাঠক সদস্য রয়েছেন। যারা এখান থেকে নিয়মিত বই পড়ছেন। সর্বসাকুল্যে এখনো পর্যন্ত ৩০০ এর মতো বই সংগ্রহে রয়েছে।
হোসাইন রিটন আরও বলেন, আমি জ্ঞানের চর্চায় পাঠককে এখানের বইগুলো প্রয়োজনে বাসায় নিয়ে হলেও পড়ার জন্য উৎসাহ দেই। গল্প, উপন্যাস, কবিতাসহ নানা ধরনের বই পাঠাগারে রয়েছে। এরমধ্যে চাঁদপুরের অধিকাংশ লেখকের বই সংগ্রহে রেখেছি। আমি যাতে পাঠকদের চাহিদা অনুযায়ী সব ধরনের বই পড়ার সুযোগ দিতে পারি, সেজন্য সবার সহযোগিতা প্রত্যাশা করছি।
ব্যক্তি মালিকানাধীন পাঠাগারকে নিবন্ধনের আওতায় নেওয়া হলে দেওয়া হয় নানা সাহায্য-সহযোগিতা। এমনটি জানিয়ে চাঁদপুর সরকারি গণগ্রন্থাগারের লাইব্রেরিয়ান রাফিয়া সুলতানা বলেন, বেসরকারি গ্রন্থাগারগুলোর জন্য তালিকাভুক্তি ও পরামর্শমূলক সেবা দিয়ে থাকি। বেসরকারি গ্রন্থাগারগুলোর তথ্য আমাদের জানালে আমরা সেটা যাচাই-বাছাই করে নিবন্ধনের আওতায় আনি। এতে পাঠাগারের পরবর্তী কার্যক্রম চালাতে সহযোগিতা করা যায়। আমাদের পাঠাগার সম্পর্কে অবহিত হলে যতটুকু সাপোর্ট দেওয়ার প্রয়োজন আমরা সেটা দিতে চেষ্টা করি।
/মাহি/