ঢাকা     শনিবার   ০৪ এপ্রিল ২০২৬ ||  চৈত্র ২২ ১৪৩২ || ১৬ শাওয়াল ১৪৪৭ হিজরি

Risingbd Online Bangla News Portal

বাইরে বেড়ানোর স্বাস্থ্য উপকারিতা (প্রথম পর্ব)

এস এম গল্প ইকবাল || রাইজিংবিডি.কম

প্রকাশিত: ০৪:৫৫, ২৪ এপ্রিল ২০১৮   আপডেট: ০৫:২২, ৩১ আগস্ট ২০২০
বাইরে বেড়ানোর স্বাস্থ্য উপকারিতা (প্রথম পর্ব)

প্রতীকী ছবি

এস এম গল্প ইকবাল : বাইরে বেড়ানো স্মৃতিশক্তি বৃদ্ধি, বিষণ্নতা প্রতিরোধ এবং রক্তচাপ হ্রাস করতে সাহায্য করে। বাইরে বেশি করে সময় কাটানোর ১২ স্বাস্থ্য উপকারিতা নিয়ে দুই পর্বের প্রতিবেদনের আজ থাকছে প্রথম পর্ব।

* স্মৃতিশক্তি বৃদ্ধি করতে পারে

কয়েকটি গবেষণায় পাওয়া যায়, প্রকৃতির মধ্যে হাঁটায় স্মৃতিশক্তি বৃদ্ধিকারক প্রভাব রয়েছে, যা অন্যান্য হাঁটায় নেই।

একটি গবেষণায় ইউনিভার্সিটি অব মিশিগানের ছাত্রছাত্রীদের সংক্ষিপ্ত স্মৃতি পরীক্ষা নেওয়া হয় এবং তারপর তাদেরকে দুটি দলে ভাগ করা হয়। একদলকে প্রকৃতির মধ্যে হাঁটতে বলা হয় এবং অন্যদলকে শহরের সড়কে। ফিরে আসার পর তাদের থেকে আবারো সংক্ষিপ্ত স্মৃতি পরীক্ষা নেওয়া হয়। দেখা যায় যে, যারা গাছপালার মধ্যে হেঁটেছে তাদের স্মৃতিশক্তি প্রথমবারের তুলনায় প্রায় ২০ শতাংশ বৃদ্ধি পেয়েছে। অন্যদিকে, যারা শহরে হেঁটেছে তাদের স্মৃতিশক্তির কোনো ধারাবাহিক উন্নতি হয়নি।

বিষণ্ন লোকদের ওপর পরিচালিত অনুরূপ একটি গবেষণায় পাওয়া যায়, প্রকৃতির মধ্যে হাঁটা শহুরে পরিবেশের মধ্যে হাঁটার চেয়ে অনেক বেশি স্মৃতিশক্তি বৃদ্ধি করে।

* মানসিক চাপ হ্রাস করে

এক গবেষণায় পাওয়া যায়, যেসব ছাত্রদেরকে দুই রাতের জন্য বনে পাঠানো হয়েছিল তাদের করটিসলের মাত্রা ওই সময়ে শহরে থাকা ছাত্রদের তুলনায় কম ছিল। করটিসল হচ্ছে, এমন একটি হরমোন যা প্রায়ক্ষেত্রে স্ট্রেস বা মানসিক চাপের মার্কার হিসেবে ব্যবহার করা হয়।

অন্য একটি গবেষণার গবেষকরা আবিষ্কার করেন যে, যারা শহরে সময় কাটিয়েছে তাদের তুলনায় বনে সময় কাটানো লোকদের হৃদকম্পন ও করটিসলের মাত্রা উভয়ই হ্রাস পেয়েছে। গবেষকরা সিদ্ধান্তে আসেন যে, মানসিক চাপপূর্ণ অবস্থা বন থেরাপির মাধ্যমে উপশম করা যেতে পারে।

অফিস কর্মীদের ক্ষেত্রে, জানালার বাইরে প্রাকৃতিক দৃশ্য দর্শন মানসিক চাপ হ্রাস এবং কাজে সন্তুষ্টি বৃদ্ধির সঙ্গে সম্পর্কযুক্ত।

* প্রদাহ হ্রাস করে

যখন প্রদাহ অতিরিক্ত হয়ে যায়, তখন তা বিভিন্ন রোগের সঙ্গে সম্পর্কযুক্ত হতে পারে, যেমন- অটোইমিউন ব্যাধি, প্রদাহজনিত অন্ত্র রোগ, বিষণ্নতা ও ক্যানসার। প্রকৃতিতে সময় কাটানো প্রদাহ নিয়ন্ত্রণের একটি উপায় হতে পারে।

এক গবেষণায় পাওয়া যায়, যারা বনে সময় অতিবাহিত করেছে তাদের প্রদাহের মাত্রা শহরে সময় কাটানো লোকদের চেয়ে কম ছিল। অন্য একটি গবেষণা অনুসারে, যেসব বয়স্ক রোগীদের সপ্তাহব্যাপী বন ভ্রমণে পাঠানো হয়েছিল তাদের মধ্যে প্রদাহ হ্রাসের লক্ষণ ছিল। এসব রোগীদের হাইপারটেনশন লেভেলের ওপর এ বন ভ্রমণের ইতিবাচক প্রভাবের কিছু লক্ষণ পাওয়া যায়।

* অবসাদ দূর করতে সাহায্য করে

মানসিক অবসাদ থেকে মুক্তি পেতে চাইলে মানসিক বলবর্ধক পরিবেশে যেতে পারেন। এর জন্য আপনাকে বাইরে যেতে হবে, বিশেষ করে প্রাকৃতিক পরিবেশে। একটি গবেষণায় আবিষ্কার হয় যে, কেবলমাত্র প্রকৃতির ছবিতে তাকানোতে গবেষণায় অংশগ্রহণকারীদের মধ্যে মানসিক শক্তি ফিরে এসেছে (শহরের দৃশ্য সম্বলিত ছবিতে এ ধরনের প্রভাব ছিল না)।

গবেষণায় আরো পাওয়া যায় যে, প্রাকৃতিক সৌন্দর্য ভয়ভীতির অনুভূতি দূর করতে পারে এবং এটি হচ্ছে, মানসিক উন্নতিসাধনের একটি নিশ্চিত উপায়।

* বিষণ্নতা ও উদ্বেগ প্রতিরোধে সাহায্য করতে পারে

বিষণ্নতা, উদ্বেগ এবং অন্যান্য মানসিক স্বাস্থ্য সমস্যা প্রাকৃতিক পরিবেশে সময় কাটিয়ে উপশম করা যেতে পারে, বিশেষ করে এর সঙ্গে ব্যায়াম সমন্বয় হলে।

একটি গবেষণা থেকে জানা যায়, বন বা গাছপালার মধ্যে হাঁটা উদ্বেগ ও মেজাজ খারাপ হ্রাসের সঙ্গে সম্পর্কযুক্ত ছিল। অন্য একটি গবেষণায় পাওয়া যায় যে, বাইরে হাঁটা বড় ধরনের বিষণ্নতামূলক ব্যাধির চিকিৎসায় সাপ্লিমেন্ট গ্রহণের মতো গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে পারে।

‘গ্রিন এক্সারসাইজ’ সম্পর্কিত ১০ বছরের গবেষণা বিশ্লেষণ থেকে জানা যায়, প্রত্যেকটি সবুজ পরিবেশ আত্মবিশ্বাস ও মেজাজ উভয়ের উন্নতিসাধন করে। এ রিভিউ আরো ইঙ্গিত দিয়েছে যে, এটি মানসিকভাবে অসুস্থ লোকদের আত্মবিশ্বাস ফিরিয়ে দিয়ে বড় ধরনের উন্নতিসাধন করতে পারে।

বিভিন্ন গবেষণা অনুসারে, প্রাকৃতিক দৃশ্যে পানির উপস্থিতি ইতিবাচক প্রভাব আরো বাড়িয়ে দেয়।

* দৃষ্টিশক্তি রক্ষা করতে পারে

অন্ততপক্ষে শিশুদের ক্ষেত্রে, গবেষণায় পাওয়া যায় যে, বাইরের কার্যক্রম চোখের ওপর প্রতিরক্ষামূলক প্রভাব রাখতে পারে এবং নিকটদৃষ্টি বা মায়োপিয়া বিকশিত হওয়ার ঝুঁকি হ্রাস করতে পারে।

২০১২ সালের গবেষণার রিভিউ থেকে এ সিদ্ধান্ত নেওয়া হয় যে, শিশু ও কিশোর-কিশোরীদের মধ্যে মায়োপিয়া বিকাশের ঝুঁকি ও অগ্রগতি কমানোর একটি সাধারণ স্ট্র্যাটেজি হতে পারে বাইরে সময় কাটানো।

তাইওয়ানে দুটি পাশ্ববর্তী স্কুলে গবেষণা করা হয় যেখানে মায়োপিয়া সমানভাবে কমন ছিল। একটি স্কুলকে বিরতির সময় বাইরের কার্যক্রম বাড়াতে বলা হয় এবং অন্য স্কুলকে কন্ট্রোলে রাখা হয়। এক বছর পর, কন্ট্রোল স্কুলে মায়োপিয়া ছিল ১৭.৬৫% এবং বাইরের কার্যক্রম বাড়ানো স্কুলের মায়োপিয়া ছিল ৮.৪১%।

(আগামী পর্বে সমাপ্য)

তথ্যসূত্র : বিজনেস ইনসাইডার




রাইজিংবিডি/ঢাকা/২৪ এপ্রিল ২০১৮/ফিরোজ

রাইজিংবিডি.কম

সর্বশেষ

পাঠকপ্রিয়