প্রতি মৌসুমে ইউরোপে রপ্তানি হচ্ছে মাগুরার দুই কোটি টাকার তিল
আনোয়ার হোসেন শাহীন || রাইজিংবিডি.কম
শহরের খান পাড়ার এই কারখানায় তিল পরিশোধন করে বস্তা সেলাইয়ের পর তা বিদেশে পাঠানো হয়
আনোয়ার হোসেন শাহীন, মাগুরা : স্থানীয়ভাবে ভোজ্য তেলের চাহিদা মিটিয়ে মাগুরা থেকে প্রতি মৌসুমে প্রায় দুই কোটি টাকার তিল রপ্তানি হচ্ছে ইউরোপসহ বিশ্বের বিভিন্ন দেশে। যে কারণে অর্থকরী ফসল হিসেবে তিল চাষ এখন কৃষকদের মাঝে বেশ জনপ্রিয় হয়ে উঠেছে। বাংলাদেশে উৎপাদিত তিল পুষ্টি ও খাদ্য গুণে অনন্য হওয়ায় বিদেশে এর ব্যাপক চাহিদার কারণে রপ্তানিকারকরাও চাষিদের উদ্বুদ্ধ করছেন এ রবি শস্য চাষের জন্য।
কয়েক বছর ধরে আইএসওয়াইএ-ইন্টারন্যাশনাল নামে মাগুরার এ প্রতিষ্ঠানটি ইউরোপের কানাডা, অস্ট্রিয়া এশিয়ার চিন, কোরিয়া, জাপানসহ বিভিন্ন দেশে তিল রপ্তানি করছে। এ প্রতিষ্ঠানটি বিভিন্ন জেলা থেকে ব্যবসায়ী ও কৃষকের কাছ থেকে তিল সংগ্রহ করে মাগুরা, কুষ্টিয়া ও বরিশালে প্রতিষ্ঠিত তিনটি তিল শোধন কারখানার মাধ্যমে প্রতি বছর ২ থেকে আড়াই হাজার টন তিল বিদেশে রপ্তানি করছে।
মাগুরা শহরের খান পাড়ায় প্রতিষ্ঠিত তিল শোধনাগারে আইএসওয়াইএ-ইন্টারনাশনালের কর্মকর্তাদের সাথে আলাপকালে জানা যায়, দেশের বিভিন্ন অঞ্চলে উৎপাদিত সাদা, কালো, লাল ও হলুদ এ ৪ ধরনের তিলই বিদেশের বাজারগুলোতে জনপ্রিয়তা পেয়েছে। এর মূল কারণ হচ্ছে তিল থেকে যে ভোজ্য তেল তৈরি হয় তা সম্পূর্ণরূপে ক্ষতিকর কলস্টরেলমুক্ত। এ ছাড়া সাদা তিল বিদেশে উন্নত মানের ফাস্টফুডে একটি প্রয়োজনীয় উপকরণ হিসেবে জায়গা করে নিয়েছে। অপরদিকে তিলের বর্জ্য দিয়ে তারা তৈরি করছে পোল্ট্রি খাদ্য।
তাদের দাবি মতে, বিদেশে তিলের ব্যাপক বাজার তৈরি হবার কারণে তারা মাগুরাসহ কয়েকটি জেলার কৃষকদের তিল চাষে উদ্বুদ্ধ করার পাশাপাশি বিনামূল্যে এর বীজ সরবরাহ করছেন। এ ছাড়া রপ্তানিযোগ্যতার কারণে বর্তমান বাজারে কৃষকরা তিলের মূল্য আগের চেয়ে বেশি পাচ্ছেন। অতীতে প্রতি মণ তিল যেখানে বিক্রি হতো ১ হাজার টাকা থেকে ১১শ’ টাকায়, বর্তমানে তা বেড়ে দাঁড়িয়েছে ১৬শ’ টাকা থেকে ১৮শ’ টাকায়। এমনকি অফ-সিজনে এই তিলের দাম ২ হাজার টাকা মণ দরেও বিক্রি হয়। যে কারণে কৃষকদের মাঝে তিল চাষ অন্যতম অর্থকারী ফসল হিসেবে জায়গা করে নিচ্ছে।
মাগুরার আইএসওয়াইএ-ইন্টারন্যাশনালের শোধানাগারে গিয়ে দেখা গেছে, উন্নতমানের বেশ কিছু মেশিন দিয়ে প্রতিদিনই প্রক্রিয়াজাত করা হচ্ছে তিল। এখানে সংগ্রহকৃত তিল প্রথমে নিয়োজিত শ্রমিকদের দিয়ে এক ধরনের ছাকুনি দিয়ে পরিষ্কার করা হয়। এরপর পরিশোধনের কয়েকটি ধাপ পেরিয়ে করা হয় প্যাকেট জাত। এই প্যাকেট জাত পরিশোধিত তিলই প্রতিষ্ঠানটির মাধ্যমে চাহিদা অনুযায়ী বাইরের দেশগুলোতে সরবরাহ করা হয়ে থাকে।
প্রতিষ্ঠানটির অন্যতম ব্যবস্থাপক কাজী মশিউর রহমান মুক্ত জানান, মাঠ পর্যায় থেকে তিল সংগ্রহ করার পর সেগুলো সুন্দরভাবে পরিশোধন করা হয়। পরিশোধিত এই তিলই ভোজ্যতেলের উপযোগী কাঁচামাল হিসেবে প্রক্রিয়াজাত ও প্যাকেটজাত করে বাইরের দেশের চুক্তিবদ্ধ কোম্পানিগুলোতে পাঠানো হয়। এ মৌসুমে ইতিমধ্যে একাধিক চালান রপ্তানি করা হয়েছে। রপ্তানির অপেক্ষায় রয়েছে উল্লেখযোগ্য পরিমাণ তিল। যার মূল্য প্রায় দুই কোটি টাকা।
আইএসওয়াইএ-ইন্টারন্যাশনালের প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা ফয়সাল ইকবাল খান দাবি করেন, সাধারণত কৃষিভিত্তিক প্রতিষ্ঠানগুলোকে সরকারিভাবে সহজ শর্তে নানা ধরনের প্রণদনা আর্থিক সুবিধা দেওয়া হয়ে থাকে। কিন্তু তারা এ ব্যাপারে সহযোগিতা পাননি। তবে সরকারি পৃষ্ঠপোষকতা পেলে তারা এই শিল্পকে আরো ব্যাপকভাবে দাড় করাতে পারবে বলে তিনি মনে করেন।
রাইজিংবিডি/মাগুরা/৮ সেপ্টেম্বর ২০১৪/দিলারা
রাইজিংবিডি.কম
এনইসিতে তিন লাখ কোটি টাকার এডিপি অনুমোদন