ঢাকা     মঙ্গলবার   ১৩ জানুয়ারি ২০২৬ ||  পৌষ ৩০ ১৪৩২

Risingbd Online Bangla News Portal

রিয়ালের নতুন কোচ: কে এই আলভারো আরবেলোয়া?

ক্রীড়া ডেস্ক || রাইজিংবিডি.কম

প্রকাশিত: ১৮:১২, ১৩ জানুয়ারি ২০২৬   আপডেট: ১৮:১৬, ১৩ জানুয়ারি ২০২৬
রিয়ালের নতুন কোচ: কে এই আলভারো আরবেলোয়া?

রিয়াল মাদ্রিদ কখনোই নীরব পরিবর্তনে বিশ্বাস করে না। এখানে বদল মানেই ঝড়। হঠাৎ, প্রবল আর আলোচনায় ভরা। তাই স্প্যানিশ সুপার কাপের ফাইনালে বার্সেলোনার কাছে ৩-২ গোলের হতাশাজনক হারের পর জাবি আলোনসোর বিদায় যখন নিশ্চিত হলো, তখনই আলোচনার কেন্দ্রে উঠে এল আরেক পরিচিত মুখ- আলভারো আরবেলোয়া।

এক সময়ের রিয়াল মাদ্রিদের নির্ভরযোগ্য ডিফেন্ডার, স্পেনের বিশ্বকাপজয়ী স্কোয়াডের সদস্য এবং আজীবন মাদ্রিদিস্তা; এই আরবেলোয়ার হাতেই এবার তুলে দেওয়া হয়েছে বিশ্বের সবচেয়ে কঠিন কোচিং দায়িত্ব। প্রশ্নটা তাই সোজাসাপ্টা, কিন্তু নির্মম- কে এই আলভারো আরবেলোয়া, আর তিনি কি এই মুহূর্তের জন্য প্রস্তুত?

আরো পড়ুন:

কেন আরবেলোয়ার দিকেই ফিরল রিয়াল?
জাবি আলোনসোর অধ্যায়টা কখনোই পুরোপুরি স্থিরতা পায়নি। ২০২৫ ক্লাব বিশ্বকাপের আগে দায়িত্ব নেওয়া এই কোচ মাত্র সাত মাস আর ৩৪ ম্যাচেই থেমে যান। ফলাফলে ওঠানামা, পারফরম্যান্সের ভাটা আর ড্রেসিংরুমে অসন্তোষের গুঞ্জন; সব মিলিয়ে চাপ বাড়ছিল ম্যাচের পর ম্যাচ। সৌদি আরবে এল ক্লাসিকো হারটাই হয়ে ওঠে শেষ পেরেক।

রিয়াল মাদ্রিদের চিরচেনা রীতিতেই দ্রুত সিদ্ধান্ত। ঘণ্টা না পেরোতেই ঘোষণা, নতুন কোচ আলভারো আরবেলোয়া। না কোনো দীর্ঘমেয়াদি প্রতিশ্রুতি, না বড় কোনো চুক্তির গল্প। শুধু একটাই বার্তা—এটা বিশ্বাস, পরিচয় আর নিয়ন্ত্রণের প্রশ্ন।

একেবারে শিকড় থেকে গড়া এক মাদ্রিদিস্তা:
আরবেলোয়ার রিয়াল-যাত্রা শুরু হয়েছিল ট্রফি তোলার অনেক আগেই। ২০০১ সালে, মাত্র ১৮ বছর বয়সে তিনি যোগ দেন রিয়াল মাদ্রিদের একাডেমিতে। কাস্তিয়া পর্যন্ত উঠে এলেও প্রথম দলে নিয়মিত সুযোগের খোঁজে তাকে পাড়ি জমাতে হয় ডেপোর্তিভো লা করুনিয়ায়।

কিন্তু রিয়াল ছিল তার অসমাপ্ত অধ্যায়। সেই টানেই ২০০৯ সালে ফেরেন ঘরে। পরের সাত মৌসুমে তিনি হয়ে ওঠেন ‘নীরব সৈনিক’। চমক নয়, বরং শৃঙ্খলা, নির্ভরতা আর নিখাদ প্রতিশ্রুতির প্রতীক। রিয়ালের জার্সিতে তার ম্যাচ সংখ্যা ২৩৭। জিতেছেন প্রায় সবকিছুই।

জয় দিয়েই গড়া ক্যারিয়ার:
আরবেলোয়ার ট্রফি ক্যাবিনেট তার পরিচয় নিজেই দেয়। রিয়ালের হয়ে জিতেছেন লা লিগা, দুটি কোপা দেল রে, দুটি চ্যাম্পিয়নস লিগ, ক্লাব বিশ্বকাপ ও স্প্যানিশ সুপার কাপ। ক্লাবের বাইরে স্পেনের সোনালি প্রজন্মের অংশ হিসেবে জিতেছেন ২০১০ বিশ্বকাপ ও ইউরো ২০০৮ ও ২০১২।

৫৬টি আন্তর্জাতিক ম্যাচে তিনি খেলেছেন কিংবদন্তিদের সঙ্গে। সবচেয়ে বড় কথা, শিখেছেন কীভাবে চাপের মুখে অভিজাত দল পরিচালিত হয়। যে শিক্ষা আজ তার সবচেয়ে বড় পুঁজি।

মাদ্রিদ ঘরানায় কোচিং শেখা: 
অনেক সাবেক তারকার মতো হঠাৎ বড় দায়িত্বে ঝাঁপাননি আরবেলোয়া। বরং ধাপে ধাপে শিখেছেন। ২০২০ সালে রিয়ালের অনূর্ধ্ব–১৪ দলের কোচ হিসেবে শুরু। এরপর অনূর্ধ্ব–১৬, অনূর্ধ্ব–১৯। সাফল্যও এসেছে হাতে হাত ধরে।

২০২২-২৩ মৌসুমে তার অনূর্ধ্ব-১৯ দল জেতে ঐতিহাসিক ট্রেবল- লিগ, কোপা দেল রে ও চ্যাম্পিয়নস কাপ। তখনই পরিষ্কার হয়ে যায়, তিনি শুধু বড় নাম নন একজন সিরিয়াস কোচ। ২০২৫ সালের মে মাসে কাস্তিয়ার দায়িত্ব পান। আট মাস পরই রিয়াল মাদ্রিদের মূল মঞ্চ।

অস্থায়ী সমাধান, নাকি দীর্ঘমেয়াদি বাজি?
৪২ বছর বয়সী আরবেলোয়া অভিজ্ঞতায় আলোনসোর চেয়ে পিছিয়ে, বয়সেও কম। তিনি এমন এক দল পেয়েছেন যারা লা লিগায় দ্বিতীয়, বার্সেলোনার থেকে চার পয়েন্ট পিছিয়ে। আর প্রতিটি মুহূর্তই তীক্ষ্ণ নজরদারির মধ্যে।

তার প্রথম পরীক্ষা খুব কাছেই, কোপা দেল রে’র শেষ ষোলোর ম্যাচে আলবাসেতের বিপক্ষে। কাগজে সহজ মনে হলেও, রিয়াল মাদ্রিদে প্রতিটি ম্যাচই একেকটা অডিশন।

তাহলে কি এক বছরের বেশি টিকবেন আরবেলোয়া? উত্তরটা শুধু ফলাফলে নয়। নির্ভর করছে তিনি কি ড্রেসিংরুমের সম্মান আদায় করতে পারবেন, দলকে স্থির করতে পারবেন, আর সর্বোপরি রিয়ালের পরিচয়ের সঙ্গে আবারও সংযোগ ঘটাতে পারবেন কি না।

ঢাকা/আমিনুল

সম্পর্কিত বিষয়:

সর্বশেষ

পাঠকপ্রিয়