রোমাঞ্চের প্রহর পেরিয়ে যেভাবে শেষ বলে ছক্কায় নায়ক ওকস
হুট করেই ধারাভাষ্যকার পারভেজ মাহরুফের বলিষ্ঠ কণ্ঠ, ‘বলটা কোথায় যাচ্ছে? কোথায় যাচ্ছে…দ্যাটস গন অল দ্য ওয়ে। সিলেট এই ম্যাচে তাদের স্কোয়াডে ওকসকে পেয়েছে। শুধু বোলিংয়ে নয়, শেষ বলে ছক্কায় দলকে জেতাতে ভূমিকা রাখলেন ওকস। কাভারের উপর দিয়ে বিশাল ছক্কায় সমীকরণ মিলিয়ে দিলেন। কি দারুণ সমাপ্তি।’’
এলিমিনেটর ম্যাচ। রংপুর রাইডার্সকে হারিয়ে এলিমিনেটর ম্যাচ জিততে শেষ বলে ৬ রান লাগবে সিলেট টাইটান্সের। ফাহিম আশরাফের করা হাফভলি বল এক্সট্রা কাভার দিয়ে উড়িয়ে ক্রিস ওকস সেই সমীকরণ মিলিয়ে দেন চোখের পলকে। দুর্দান্ত এক জয়ে সিলেট নিশ্চিত করে কোয়ালিফায়ার।
প্রথমবার বিপিএল খেলতে এসেই ওকস সিলেটের ভরসা হয়ে উঠেছেন শেষ বলে। ছক্কা মেরে দলকে জিতিয়েছেন। এর আগে বোলিংয়ে পেয়েছেন ২ উইকেট। ব্যাটিংয়ে তার শেষের কারিশমাতেই সিলেটের ভাগ্য খুলেছে।
ফাহিমের বল উড়ানোর সঙ্গে সঙ্গে ডানহাত সীমানায় তাক করে ওকস বুঝিয়ে দেন, বলটা ছয় হচ্ছে। আত্মবিশ্বাসী কণ্ঠে সংবাদ সম্মেলনেও একই কথা বললেন তিনি, ‘‘হ্যাঁ, আমি যখনই মারলাম তখনই বুঝতে পারলাম যে এটা ছক্কা। ট্রিকি পিচে খেলাটা কঠিন ছিল। ভাগ্যবান ছিলাম, আমরা সীমানা অতিক্রম করতে পেরেছি।’’
শেষ ওভারে ম্যাচে চরম নাটকীয়তা ছড়ায়। ৬ বলে ৯ রান লাগত সিলেটের। প্রথম বলে মঈন ২ রান নেওয়ার পর পরের দুই বল ডট খেলেন। চতুর্থ বলে দলকে খাদের কিনারায় ফেলে আউট হন ইংলিশ ব্যাটসম্যান। নতুন ব্যাটসম্যান খালেদ ক্রিজে গিয়ে ১ রান নেন। বল লং অন ও লং অফের মাঝে ফেলে ২ রান নেওয়ার চেষ্টায় ছিলেন তিনি। কিন্তু ওকস ১ রানের বেশি নেননি।
নিজের উপর আত্মবিশ্বাস থাকাতেই ওকস ১ রানের বেশি নেননি, ‘‘রানটা ক্লোজ হয়ে যেত। আমি সম্ভবত ২ রান নিয়েও নিতে পারতাম। কিন্তু আমার এক সময় মনে হয়েছিল আমি হয়তো পার্থক্য গড়ে দিতে পারব। আমাদের ৭ রানের প্রয়োজন ছিল। আমার পার্টনার মাত্রই ক্রিজে গিয়েছিল। আমি ততক্ষণে একাধিক বল খেলেছি। তাই সিদ্ধান্ত নেই যে আমিই বলটা খেলব। এটাকে ‘পট লাক’ বলবো। আমি নিজ থেকে দায়িত্ব নিয়ে সুযোগটি লুফে নেই। ভাগ্য ভালো এটা কাজে দিয়েছে।’’
শেষ বলে ছক্কা মেরে দলকে জেতানোর রোমাঞ্চ ভাগাভাগি করতে গিয়ে ওকস বলেছেন, ‘‘এটা খুবই রোমাঞ্চকর। শেষ বলে ছক্কা মেরে ক্রিকেট খেলা জেতা এমন কিছু যা আমি আগে কখনও করিনি। আমি আগেও এমন পরিস্থিতিতে পড়েছি যেখানে আমাকে ছক্কা মারতে হয়েছিল। কিন্তু তা করতে পারিনি, তাই সীমানার উপর দিয়ে একটি ছক্কা মারা আমার মনে থাকবে। এটা আমার কাছে বিশেষ কিছু হয়ে থাকবে কেননা বিপিএলে আমার প্রথম ম্যাচও ছিল।’’
ফাহিম আশরাফ এর আগে ওভারে পাঁচটি স্লোয়ার ও কাটার মেরেছিল। শেষ বলে গতি বাড়াবে বোলার এমন বিশ্বাস ছিল তার, ‘‘শেষ বলে আসলে চিন্তা করার কিছু থাকে না। অফস্টাম্পের বাইরে করবে তা ধারনা ছিল। আমি স্লোয়ার বা কাটারের প্রত্যাশা করিনি। কারণ এর আগে সে পাঁচটা স্লোয়ার করেছিল। আমি বাড়তি গতির বল দেখে কাভারের ওপর দিয়ে খেলেছি।’’
তবে মঈন আউট হওয়ার পর কিছুটা মনোবল হারিয়েছিলেন ওকস সেই কথাও বলতে দ্বিধা করেননি, ‘‘মঈনের আউটের পর মনে হচ্ছিল আর হচ্ছে না। তারপরও যেহেতেু একটা বড় শটের ব্যাপার-যেটা ছয় কিংবা চার যেটাই হোক…তাই আত্মবিশ্বাসী ছিলাম। আমি এখানে ব্যাটসম্যানদের থেকে বোলারদের বেশি চাপে থাকে বলে মনে করি। কারণ একটা বড় শট হয়ে যেতে পারে। তাই আমার থেকে বেশি চাপে ফাহিম আশরাফই ছিল।’’
প্রথমবার বিপিএলে মাঠে নেমে ম্যাচটাকে স্মরণীয় করে রেখেছেন ওকস। জাতীয় দলের সতীর্থ মঈন আলীর কথাতেই বিপিএলে আসার সিদ্ধান্ত নেন সাবেক জাতীয় দলের এই অলরাউন্ডার, ‘‘মঈনের বড় ভূমিকা ছিল আমার এখানে আসার। এখানে সে অনেক সময় খেলেছে। আমি যখন আন্তর্জাতিক ক্রিকেট থেকে অবসরে যাই তখন থেকেই ইচ্ছা ছিল বিভিন্ন লিগে খেলার অভিজ্ঞতা নেব। আমি মঈনের সঙ্গে যোগাযোগ রেখেছিলাম। ও জানাল, দল আমাকে পেতে আগ্রহী।’’
ঢাকা/ইয়াসিন/আমিনুল