মেসির পাশে লেভানদোভস্কি, রোনালদোকে ছাড়ালেন এমবাপ্পে
উয়েফা চ্যাম্পিয়নস লিগের লিগ পর্বের অষ্টম ও শেষ ম্যাচ ডে রীতিমতো রেকর্ডের বন্যা বইয়ে দিল। নাটকীয় এই রাত শেষে সরাসরি শেষ ষোলো নিশ্চিত করেছে পাঁচটি ইংলিশ ক্লাব- আর্সেনাল, লিভারপুল, চেলসি, ম্যানচেস্টার সিটি ও টটেনহ্যাম। অন্যদিকে শেষ মুহূর্তের অবিশ্বাস্য ঘটনাপ্রবাহে শীর্ষ আটের বাইরে ছিটকে গেছে রিয়াল মাদ্রিদ।
বেনফিকার বিপক্ষে ৪-২ ব্যবধানে হারের ম্যাচে যোগ করা সময়ে গোলরক্ষক আনাতোলি থ্রুবিনের হেডার রীতিমতো ইতিহাস গড়েছে। সেই হারে রিয়াল শেষ আটে ঢুকতে পারেনি, আর বেনফিকা উঠে গেছে প্লে-অফে। একই রাতে বার্সেলোনা ও বায়ার্ন মিউনিখ জয় পেয়েছে, আর ৯৫তম মিনিটের গোলে শীর্ষ আট নিশ্চিত করেছে স্পোর্টিং সিপি।
এই ম্যাচ ডে জন্ম দিয়েছে একের পর এক উল্লেখযোগ্য পরিসংখ্যান-
রবার্ট লেভানদোভস্কি কোপেনহেগেনের বিপক্ষে গোল করে চ্যাম্পিয়নস লিগে সবচেয়ে বেশি ভিন্ন ক্লাবের বিপক্ষে গোল করার রেকর্ডে লিওনেল মেসির (৪০ ক্লাব) পাশে বসেছেন।
কিলিয়ান এমবাপ্পে বেনফিকার বিপক্ষে জোড়া গোল করে চলতি মৌসুমে সব প্রতিযোগিতা মিলিয়ে ৩৬ গোলে পৌঁছেছেন। ইউরোপের শীর্ষ পাঁচ লিগে যা সর্বোচ্চ। একই সঙ্গে এক মৌসুমে লিগ/গ্রুপ পর্বে ১৩ গোল করে তিনি ছাড়িয়ে গেছেন ক্রিশ্চিয়ানো রোনালদোর ২০১৫-১৬ মৌসুমের ১১ গোলের রেকর্ড।
হোসে মরিনিও অবশেষে রিয়াল মাদ্রিদের বিপক্ষে কোচ হিসেবে প্রথম জয় পেলেন ষষ্ঠ চেষ্টায়।
লিভারপুলের জার্সিতে মোহাম্মদ সালাহ প্রথমবার সরাসরি ফ্রি-কিক থেকে গোল করেছেন। সব প্রতিযোগিতা মিলিয়ে এটি তার ২৫১তম গোল।
গোলরক্ষক আনাতোলি থ্রুবিন হয়ে গেলেন চ্যাম্পিয়নস লিগে গোল করা পঞ্চম গোলকিপার- হান্স-ইয়র্গ বুট, সিনান বোলাত, ভিনসেন্ট এনইয়ামা ও ইভান প্রোভেদেলের পর।
এই এক দিনে চ্যাম্পিয়নস লিগে হয়েছে মোট ৬১টি গোল। ইতিহাসে এক দিনে দ্বিতীয় সর্বোচ্চ। এর চেয়ে বেশি গোল হয়েছিল কেবল ২০২৪-২৫ মৌসুমের শেষ লিগ ম্যাচ ডেতে (৬৪)।
লিভারপুল কারাবাগের বিপক্ষে প্রথমার্ধেই নেয় ১৬টি শট। ২০০৯ সালের পর চ্যাম্পিয়নস লিগে প্রথমার্ধে তাদের সর্বোচ্চ।
বেনফিকার প্রথমার্ধের ১৪টি শট ছিল ২০২১ সালের পর চ্যাম্পিয়নস লিগে রিয়ালের বিপক্ষে সবচেয়ে বেশি হজম করা শট।
পেপ গার্দিওলা ম্যানচেস্টার সিটির কোচ হিসেবে নিজের ৪০০তম জয় তুলে নিলেন। যা ইংলিশ শীর্ষ লিগে সবচেয়ে কম ম্যাচে (৫৬৯) মাইলফলক স্পর্শের রেকর্ড।
ভির্জিল ফন ডাইক চ্যাম্পিয়নস লিগের এক ম্যাচে তিনটি গোলে সহায়তা করা প্রথম সেন্টার-ব্যাক।
ডমিনিক সোবোসলাই টানা ছয় ম্যাচে লিভারপুলের হয়ে গোল বা অ্যাসিস্ট করা দ্বিতীয় খেলোয়াড়। এর আগে কেবল সালাহ পেরেছিলেন।
সব মিলিয়ে, এক রাতেই ইতিহাসের পাতায় জায়গা করে নিলেন লেভানদোভস্কি, এমবাপ্পে, সালাহ থেকে শুরু করে এক গোলরক্ষক থ্রুবিনও। চ্যাম্পিয়নস লিগ আবারও প্রমাণ করল- এখানে রেকর্ড ভাঙে, নায়ক বদলায়, আর নানা নাটকের জন্ম হয় শেষ বাঁশি পর্যন্ত।
ঢাকা/আমিনুল