বিশ্বকাপে ইতিহাস পরিবর্তন করার চ্যালেঞ্জ জ্যোতির
২০১৪ নারী টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপ থেকে বাংলাদেশ নিয়মিত খেলছে। কিন্তু ফলাফলের দিক থেকে বৈশ্বিক এই আসরে একেবারেই বিবর্ণ বাংলাদেশ। ২৫ ম্যাচে মাত্র ৩ জয় বাংলাদেশের।
২০১৪ সালে প্রথম আসরে শ্রীলঙ্কা ও আয়ারল্যান্ডকে ঘরের মাঠে হারানোর সুখস্মৃতির পর চার আসরে কোনো জয় ছিল না বাংলাদেশের। ষষ্ঠ আসরে স্কটল্যান্ডকে হারিয়ে বিশ্বকাপ শুরু করলেও পরবর্তীতে আবার ব্যর্থতার গাড়ি চলতেই থাকে।
দুই বছর পেরিয়ে সপ্তম টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপে মাঠে নামার অপেক্ষায় বাংলাদেশ। ইংল্যান্ড অ্যান্ড ওয়েলসে বসছে এবারের আসর। মাঠে ভালো ক্রিকেট খেলে ইতিহাস পরিবর্তন করার চ্যালেঞ্জ নিয়েছেন অধিনায়ক নিগার সুলতানা জ্যোতি।
স্বপ্নের বিশ্বকাপ রাঙানোর চ্যালেঞ্জ নিয়ে দেশ ছাড়ার আগে জ্যোতি সেই কথাই বললেন গণমাধ্যমে, ‘‘একটা দীর্ঘ উইনলেস রোড পেরিয়ে আসছিলাম। তবে আমি এটাকে বোঝা হিসেবে দেখছি না। বরং ইতিহাস বদলে দেওয়ার একটি চ্যালেঞ্জ হিসেবেই নিচ্ছি।’’
টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপে মাঠে নামার আগে বাংলাদেশ স্কটল্যান্ডে ত্রিদেশীয় সিরিজ খেলবে। যেখানে স্বাগতিক দলসহ থাকবে নেদারল্যান্ডস। দুই বহরে বাংলাদেশ স্কটল্যান্ড যাবে। আজ রাত ১টা ৪০ মিনিটে অধিনায়ক জ্যোতিসহ এক বহর রওনা হবে। ২৬ মে সকাল ১০টা ১৫ মিনিটে বাকিরা উড়াল দেবেন।
প্রথমবারের মতো নারীদের টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপে ১২ দল অংশ নেবে। দুইটি গ্রুপে ভাগ হয়ে প্রতিদ্বন্দিতা করবে দলগুলো। সব মিলিয়ে ম্যাচ হবে ৩৩টি। ১২ জুন টুর্নামেন্ট শুরু হবে। ২৪ দিনের রোমাঞ্চকর প্রতিযোগিতা শেষ হবে ৫ জুলাই। লর্ডস ক্রিকেট গ্রাউন্ডে হবে ফাইনাল ম্যাচ।
বাংলাদেশ পড়েছে গ্রুপ ‘এ’-তে। যেখানে প্রতিপক্ষ হিসেবে পেয়েছে নেদারল্যান্ডস, অস্ট্রেলিয়া, দক্ষিণ আফ্রিকা, ভারত ও পাকিস্তানকে। ‘বি’ গ্রুপে রয়েছে নিউ জিল্যান্ড, ইংল্যান্ড, ওয়েস্ট ইন্ডিজ, শ্রীলঙ্কা, আয়ারল্যান্ড ও স্কটল্যান্ড।
বাংলাদেশের প্রথম ম্যাচ ১৪ জুন নেদারল্যান্ডসের বিপক্ষে, এজবাস্টনে। সকাল সাড়ে দশটায় শুরু হবে ম্যাচ। একই দুজন একই ভেন্যু ভারত ও পাকিস্তানের ম্যাচ। ১৭ জুন বাংলাদেশের প্রতিপক্ষ অস্ট্রেলিয়া। খেলা হবে হেডিংলিতে।
তিন দিন পর হ্যাম্পশায়ারে বাংলাদেশের প্রতিপক্ষ পাকিস্তান। পাঁচদিনের বড় বিরতির পর ওল্ড ট্রাফোর্ডে বাংলাদেশ খেলবে ভারতের বিপক্ষে। এরপর ২৮ জুন লর্ডসে দক্ষিণ আফ্রিকার বিপক্ষে নিজেদের শেষ ম্যাচ খেলবেন নিগার সুলতানা জ্যোতিরা।
নিজেদের প্রস্তুতি নিয়ে জ্যোতি বলেছেন, ‘‘আমাদের দলে এখন বোলিং ইউনিটে ভালো গভীরতা তৈরি হয়েছে। আগে যেখানে এক–দুইজনের ওপর নির্ভরতা ছিল, এখন সেখানে আরও কয়েকজন ধারাবাহিকভাবে ভালো করছে। সবচেয়ে বড় কথা, শেষ কয়েকটি সিরিজে যেসব খেলোয়াড় সুযোগ পেয়েছে, তারা নিজেদের প্রমাণ করতে পেরেছে। বিশেষ করে টি-টোয়েন্টি ফরম্যাটে যারা নিয়মিত পারফর্ম করছে, তাদের আত্মবিশ্বাসও এখন অনেক বেশি। শেষ সিরিজের পারফরম্যান্স দেখলে বোঝা যায়, সুযোগ পেলে তারা ম্যাচ জেতানোর সামর্থ্য রাখে। তাই আমরা দুজন খেলোয়াড়কেই দলে রাখতে পারছি এবং অভিজ্ঞদের সঙ্গেও ভারসাম্য বজায় রাখছি। এখন মূল লক্ষ্য হলো, এই খেলোয়াড়দের সঠিকভাবে গড়ে তোলা এবং তাদের আত্মবিশ্বাস ধরে রাখা, যাতে তারা বিশ্বকাপেও একই ধারাবাহিকতা বজায় রাখতে পারে।’’
টুর্নামেন্টের শুরু থেকে ছন্দ ধরে রাখতে চান জ্যোতি। শুরুটা ভালো করলে এবং শক্ত প্রতিপক্ষের বিপক্ষে ভালো করলে পরবর্তীতে পথ মসৃণ হতে পারে বলে বিশ্বাস করেন বাংলাদেশের অধিনায়ক, ‘‘আমি মনে করি, আমাদের সামনে দুটি বড় চ্যালেঞ্জ আছে। একটি হলো নিজেদের ধারাবাহিকতা ধরে রাখা, আর অন্যটি পাকিস্তানের মতো শক্ত প্রতিপক্ষের বিপক্ষে ভালো করা। তবে বাংলাদেশের জন্য ইতিবাচক দিক হচ্ছে, বড় দলগুলোর বিপক্ষে খেলার অভিজ্ঞতা এখন আমাদের আছে। বিশেষ করে ভারত, নিউ জিল্যান্ড কিংবা পাকিস্তানের মতো দলের সঙ্গে খেলার অভিজ্ঞতা আমাদের ম্যাচ পরিকল্পনায় অনেক সাহায্য করে।’’
‘‘আমার কাছে সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হলো শুরুটা ভালো করা। আমরা যদি শুরুতেই ভালো মোমেন্টাম তৈরি করতে পারি, তাহলে পুরো টুর্নামেন্টে সেটা আমাদের অনেক এগিয়ে রাখবে। আমি বিশ্বাস করি, এবার আমরা এমন একটি গ্রুপে আছি যেখানে ভালো কিছু করার সুযোগ রয়েছে এবং আমরা নিজেদের সেরাটা দিতে পারব।’’
‘‘দল খুবই এক্সাইটেড, তবে একই সঙ্গে সবাই বেশ ফোকাসডও। কারণ এবার প্রতিটি ম্যাচই গুরুত্বপূর্ণ। ছোটবেলা থেকে আমরা যে মঞ্চে খেলার স্বপ্ন দেখি, এখন সেই পর্যায়ে নিজেদের প্রমাণ করার সুযোগ এসেছে।’’ – যোগ করেন তিনি।
ঢাকা/ইয়াসিন/আমিনুল
জঙ্গল সলিমপুরে র্যাবের ক্যাম্পে সন্ত্রাসীদের গুলি, যৌথ বাহিনীর অভিযান