জাবিতে উপাচার্য-প্রক্টরকে লাঞ্ছনার প্রতিবাদে মানববন্ধন
জাবি প্রতিনিধি || রাইজিংবিডি.কম
জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ে (জাবি) নারী শিক্ষার্থীকে ধর্ষণচেষ্টার ঘটনাকে ঘিরে চলমান আন্দোলন নতুন মোড় নিয়েছে। এবার বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য ও প্রক্টরকে একদল আন্দোলনকারীর গালাগালি এবং মারতে উদ্যত হওয়াসহ অসৌজন্যমূলক আচরণের প্রতিবাদে মানববন্ধন করেছেন শিক্ষার্থীরা।
সোমবার (১৮ মে) দুপুর ১২টা ও দুপুর ২টার দিকে বিশ্ববিদ্যালয়ের শহীদ মিনার প্রাঙ্গণ এবং আ ফ ম কামালউদ্দীন হলের সামনে পৃথক দুটি মানববন্ধন কর্মসূচি অনুষ্ঠিত হয়।
এ সময় শিক্ষার্থীরা শিক্ষকদের প্রতি অশোভন আচরণের তীব্র নিন্দা জানান। একইসঙ্গে ধর্ষণচেষ্টার ঘটনায় জড়িতদের দ্রুত গ্রেপ্তার ও দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি জানানো হয়েছে।
এর আগে রবিবার (১৭ মে) সন্ধ্যায় বহিরাগত আটকের ঘটনাকে কেন্দ্র করে নিরাপত্তা কার্যালয়ে যান বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রক্টর অধ্যাপক এ কে এম রাশিদুল আলম। অভিযোগ রয়েছে, সেখানে উপস্থিত একদল শিক্ষার্থী তাকে লক্ষ্য করে গালিগালাজ করেন এবং আক্রমণের চেষ্টা চালান। পরিস্থিতি উত্তপ্ত হয়ে উঠলে তিনি উপাচার্যের গাড়িতে আশ্রয় নেন। এ সময় বিক্ষুব্ধদের একটি অংশ উপাচার্যের গাড়িতেও হামলার চেষ্টা করে।
মানববন্ধনে পরিবেশ বিজ্ঞান বিভাগের শিক্ষার্থী ইমন মোল্লা বলেন, “আমাদের বিশ্ববিদ্যালয়ের এক শিক্ষার্থীর সঙ্গে ঘটে যাওয়া ন্যক্কারজনক ঘটনার তীব্র নিন্দা জানাই। দ্রুত অভিযুক্তকে আইনের আওতায় এনে সর্বোচ্চ শাস্তি নিশ্চিত করতে হবে। কিছু স্বার্থান্বেষী মহল এই আন্দোলনকে ভিন্ন খাতে প্রবাহিত করার চেষ্টা করছে, যা কোনো সচেতন শিক্ষার্থীর আচরণ হতে পারে না।”
পরিবেশ বিজ্ঞান বিভাগের ৫৪ তম ব্যাচের শিক্ষার্থী কামাল পাশা বলেন, “বিচার দাবির আন্দোলনকে ঘিরে কিছু শিক্ষার্থী আমাদের সম্মানিত শিক্ষকদের সঙ্গে যে অসৌজন্যমূলক আচরণ ও অশালীন ভাষা ব্যবহার করেছে, তা কোনোভাবেই গ্রহণযোগ্য নয়। ন্যায়বিচারের দাবিকে রাজনৈতিক এজেন্ডা বাস্তবায়নের হাতিয়ার বানানো উচিত নয়।”
পরিবেশ বিজ্ঞান বিভাগের ৫০ তম ব্যাচের শিক্ষার্থী ও জাকসুর পরিবহনবিষয়ক সম্পাদক তানভীর রহমান বলেন, “ধর্ষণচেষ্টার ঘটনার ১০০ ঘণ্টা পেরিয়ে গেলেও অপরাধী গ্রেপ্তার না হওয়াটা উদ্বেগজনক। এর মধ্যে আন্দোলনের মূল দাবি থেকে সরে গিয়ে একটি গোষ্ঠী শিক্ষকদের লাঞ্ছিত করছে। এ ধরনের কর্মকাণ্ডে জড়িতদের বিরুদ্ধে দ্রুত প্রশাসনিক ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানাচ্ছি।”
আ ফ ম কামালউদ্দীন হলের শিক্ষার্থীদের মানববন্ধনে হল সংসদের জিএস মোহাম্মদ আবরার শাহরিয়ার বলেন, “ন্যায়বিচারের পরিবর্তে কিছু শিক্ষার্থী আন্দোলনের নামে নিজেদের স্বার্থ হাসিলের চেষ্টা করছে। দীর্ঘ ১৭ বছর ফ্যাসিবাদের বিরুদ্ধে লড়াই করা উপাচার্যকে তারাই ‘ফ্যাসিস্ট’ বলছে, যারা নিজেরাই বিগত স্বৈরাচারের দোসর ছিল। আমরা অবিলম্বে ধর্ষণচেষ্টায় জড়িতদের পাশাপাশি আন্দোলনকে ভিন্ন খাতে নেওয়ার অপচেষ্টায় উপাচার্য ও প্রক্টরকে লাঞ্ছিতকারীদেরও বিচার চাই।”
মানববন্ধন থেকে শিক্ষার্থীরা শান্তিপূর্ণ অবস্থান বজায় রেখে দ্রুত অপরাধীকে গ্রেপ্তার, সুষ্ঠু বিচার নিশ্চিত এবং ক্যাম্পাসের স্বাভাবিক পরিবেশ বজায় রাখতে সবাইকে ঐক্যবদ্ধ থাকার আহ্বান জানান।
ঢাকা/আহসান/জান্নাত
ঈদুল আজহায় সংবাদপত্রে ছুটি ৫ দিন (২৬ থেকে ৩০ মে): নোয়াব