ঢাকা     সোমবার   ১৫ আগস্ট ২০২২ ||  শ্রাবণ ৩১ ১৪২৯ ||  ১৬ মহরম ১৪৪৪

কেন আসবেন ক্যাম্পাস সাংবাদিকতায়?

ক্যাম্পাস ডেস্ক || রাইজিংবিডি.কম

প্রকাশিত: ০২:৪০, ১ জুলাই ২০২২   আপডেট: ০২:৪৩, ১ জুলাই ২০২২
কেন আসবেন ক্যাম্পাস সাংবাদিকতায়?

সাংবাদিক! শব্দটি যেন সমগ্র জাতির জন্য অন্যরকম এক গ্রহণযোগ্যতার বিষয়। আর ক্যাম্পাস সাংবাদিকতা তো আরও এক ধাপ এগিয়ে। ক্যাম্পাস সাংবাদিক হতে কেই—বা না চায়? সবাই চাইলেও, কিছু সংখ্যক সাহসী, মেধাবী এবং কঠোর পরিশ্রমী শিক্ষার্থীরাই হতে পারে ক্যাম্পাস সাংবাদিক। সময়ের চাকায় জনপ্রিয় হয়ে ওঠা ক্যাম্পাস সাংবাদিকতার সুবিধা, অসুবিধা, চ্যালেঞ্জ ও সম্ভাবনার নানান দিক নিয়ে জানিয়েছেন বিভিন্ন বিশ্ববিদ্যালয়ের ক্যাম্পাস সাংবাদিকরা। তাদের কথা তুলে ধরেছেন রাইজিংবিডির ঢাকা ইন্টারন্যাশনাল ইউনিভার্সিটি সংবাদদাতা কাওছার আলী। 

আগ্রহের পূর্ণতা দিয়েছে ক্যাম্পাস সাংবাদিকতা
ক্যাম্পাস সাংবাদিকতায় সাংবাদিকরা হলো ক্যাম্পাসের দর্পণ। সাংবাদিকতা আর লেখালেখির প্রতি প্রবল আগ্রহ আমার ছোটবেলা থেকেই। ছোটবেলা থেকেই গল্প, কবিতা লিখতাম আর ভাবতাম একদিন সংবাদপত্রে এসব প্রকাশিত হবে। আমার এই আগ্রহের পূর্ণতা দিয়েছে ক্যাম্পাস সাংবাদিকতা। ক্যাম্পাস সাংবাদিকতার মাধ্যমে বিভিন্ন শ্রেণী-পেশার লোকজনের সাথে যোগাযোগ করতে গিয়ে জেনেছি অজানা অনেক কিছু। শিখেছি কলমের শক্তিকে উপলব্ধি করতে। বস্তুনিষ্ঠ ও নিরপেক্ষ সংবাদ প্রকাশে ক্যাম্পাস সাংবাদিকরা সর্বদা প্রস্তুত থাকে। আর এই ভালো লাগা ও ভালোবাসা থেকে লেখাপড়ার পাশাপাশি ক্যাম্পাস সাংবাদিকতায় যুক্ত হয়েছি।

মো. আজহারুল হক মিজান
নোয়াখালী বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়

 

সাংবাদিকতার আঁতুড়ঘর ক্যাম্পাস সাংবাদিকতা
যেখান থেকে দেশ বরেণ্য ও নামকরা সাংবাদিকের জন্ম হয় তা হলো বিশ্ববিদ্যালয় ক্যাম্পাস। ক্যাম্পাস সাংবাদিকতাকে বলা হয়ে থাকে সাংবাদিকতার আঁতুড়ঘর। বিশ্ববিদ্যালয়গুলোতে যারা সাংবাদিকতা করেন সাংবাদিকতার তেমন কোনও ধরনের জ্ঞান না থাকা সত্ত্বেও সাংবাদিকতার প্রতি ভালোবাসা থেকেই নিজেকে ক্যাম্পাস সাংবাদিকতায় নিযুক্ত করেন। শুরুর দিকে সংবাদ নির্বাচন ও লেখায় অপরিপক্বতার পরিচয় দিলেও সময়ের সঙ্গে পাল্লা দিয়ে চলতে চলতে নিজেকে নিয়ে যেতে পারেন সাফল্যের চূড়ায়। ক্যাম্পাস সাংবাদিকতার সাথে জড়িত অনেকেই স্বপ্ন দেখেন দেশসেরা সাংবাদিক হওয়ার। ক্যাম্পাস সাংবাদিকতা, যেখান থেকে একজন সাংবাদিকের মাঝে জন্ম নেয় সততা, দায়বদ্ধতা এবং নিষ্ঠায় দেশপ্রেমে নিজেকে ধাবিত করার এক অপ্রতিরোধ্য আবেগ। যে আবেগকে মনে ধারণ করতে হলে আসতে হবে ক্যাম্পাস সাংবাদিকতায়।

জুবায়েদুল হক রবিন
শাহজালাল বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়

 

ক্যাম্পাস সাংবাদিকতা শিক্ষার একটি বড় মাধ্যম
ক্যাম্পাস সাংবাদিকতা মেধার বিকাশ ঘটায় এবং স্বাধীনভাবে মত প্রকাশের চর্চা শেখায়। শেখায় অন্যায়ের বিরুদ্ধে কথা বলতে। ক্যাম্পাস সাংবাদিকতা করলে কীভাবে পরিস্থিতি অনুযায়ী পদক্ষেপ নিতে হয় সেটা জানা যায়। সারাদেশের সাংবাদিকদের সাথে একটি যোগাযোগ সৃষ্টি হয় এতে করে যোগাযোগ দক্ষতাও বৃদ্ধি পায়। বিশ্ববিদ্যালয়সহ অন্যান্যদের কাছে নিজের একটা আলাদা পরিচিতি গড়ে ওঠে। সুযোগ হয় অনেক ধরনের মানুষের সঙ্গে কথা বলা ও চলাফেরা করার। তাতে পাবলিক স্পিকিং দক্ষতাও বৃদ্ধি পায়। সর্বোপরি ক্যাম্পাস সাংবাদিকতা শিক্ষার একটি বড় মাধ্যম বলা যেতে পারে। যারা ভবিষ্যতে পেশা হিসেবে সাংবাদিকতা করতে চায় তাদের জন্য ক্যাম্পাস সাংবাদিকতা বেশি গুরুত্বপূর্ণ। কারণ ক্যাম্পাস সাংবাদিকতা তাদের ভবিষ্যতে সাংবাদিকতার ভীত শক্ত করে।

সাব্বির আহমেদ
বরিশাল বিশ্ববিদ্যালয়

 

পুঁথিগত বিদ্যা অর্জন করাটা যথেষ্ট নয়
বিশ্ববিদ্যালয়ে শুধুমাত্র পুঁথিগত বিদ্যা অর্জন করাটা যথেষ্ট নয়। এখানে সততা, নেতৃত্বদান, সকলের সাথে মিশতে পারাসহ আরও নানান সামাজিক গুণাবলী অর্জনের যথেষ্ট সুযোগ থাকে। যেকোনও উচ্চতর শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের সাংবাদিক সংগঠনের সাথে নিজেকে যুক্ত করতে পারলে এইসব গুণাবলী সহজেই রপ্ত করা যায়। ক্যাম্পাস সাংবাদিকতার মাধ্যমে সততার সাথে যেকোনও বিষয় সবার সামনে তুলে ধরা যায়। এতে নির্ভরযোগ্যতা ও নেতৃত্বদানের সুযোগ তৈরি হয়। যেকোনও খবরের তথ্য সংগ্রহ করতে ক্যাম্পাসের প্রশাসনিক কর্মকর্তা থেকে শুরু করে শিক্ষক-শিক্ষার্থী, এমনকি চতুর্থ শ্রেণির কর্মচারীদের সাথে মিশতে হয়, যা মানুষের একটি উল্লেখযোগ্য গুণ। পাশাপাশি লেখালেখির হাত পাকা করতে ও সমসাময়িক বিভিন্ন বিষয়ে পরিপূর্ণ জ্ঞান রাখতে এই ক্যাম্পাস সাংবাদিকতা অতুলনীয়। এক কথায় নিজেকে ভবিষ্যতের জন্য প্রস্তুত করতে হলে ক্যাম্পাস সাংবাদিকতায় আসা উচিত।

মো. বরাতুজ্জামান স্পন্দন
গণ বিশ্ববিদ্যালয়

ঢাকা/এনএইচ

সর্বশেষ

পাঠকপ্রিয়