আবাসন সংকটে জবি: বেদখলকৃত দুই হল ফেরত চায় ছাত্রদল
জবি প্রতিনিধি || রাইজিংবিডি.কম
দীর্ঘদিন ধরে বেদখলে থাকা জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ের (জবি) সৈয়দ নজরুল ইসলাম হল ও আব্দুর রহমান হল পুনরুদ্ধারের দাবিতে ১০ দিনের আল্টিমেটাম দিয়েছে বিশ্ববিদ্যালয় শাখা ছাত্রদল। দ্রুত আবাসন সংকট নিরসনে ব্যবস্থা না নিলে কঠোর কর্মসূচিরও হুঁশিয়ারি দিয়েছে সংগঠনটি।
মঙ্গলবার (৩১ মার্চ) ব্যানারসহ র্যালি নিয়ে ছাত্রদলের নেতাকর্মীরা হল দুটি পরিদর্শন করেন। কর্মসূচির অংশ হিসেবে তারা আব্দুর রহমান হল ও সৈয়দ নজরুল ইসলাম হল ঘুরে দেখেন এবং সার্বিক পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণ করেন। এ সময় তারা অভিযোগ করেন, দীর্ঘদিন ধরে হলগুলো বেদখলে থাকায় সাধারণ শিক্ষার্থীরা চরম আবাসন সংকটে ভুগছেন।
পরিদর্শনকালে উপস্থিত শিক্ষার্থীরা জানান, পূর্ববর্তী সরকারের সময়ে হলগুলো দখল হয়ে যাওয়ায় তারা ন্যায্য আবাসন সুবিধা থেকে বঞ্চিত হয়েছেন। অনেকেই বাধ্য হয়ে পুরান ঢাকার ঘিঞ্জি পরিবেশে মেসে থাকছেন, যেখানে আর্থিক সংকটের কারণে টিকে থাকাও কঠিন হয়ে পড়েছে। তাদের মতে, হলগুলো পুনরুদ্ধার করা গেলে আবাসন সংকট অনেকটাই লাঘব হবে।
শাখা ছাত্রদলের সিনিয়র যুগ্ম আহ্বায়ক মোস্তাফিজুর রহমান রুমি বলেন, “জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীদের জন্য আবাসন একটি মৌলিক অধিকার হলেও বছরের পর বছর তারা তা থেকে বঞ্চিত। এ অবস্থা আর চলতে পারে না। দীর্ঘদিন ধরেই এই সংকট নিরসনে ছাত্রদল সোচ্চার রয়েছে। এরই ধারাবাহিকতায় দুটি হল উদ্ধারের দাবিতে সরেজমিন পরিদর্শন করে প্রশাসনকে ১০ দিনের আল্টিমেটাম দেওয়া হয়েছে। নির্ধারিত সময়ের মধ্যে কার্যকর পদক্ষেপ না নিলে কঠোর আন্দোলনের ঘোষণা দেওয়া হবে।
ছাত্রদলের যুগ্ম আহ্বায়ক সুমন সর্দার বলেন, “শিক্ষার্থীদের আবাসন নিশ্চিত করা বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনের দায়িত্ব হলেও তা দীর্ঘদিন অবহেলিত হয়েছে। আমরা আমাদের ন্যায্য হল ফিরে পেতে চাই। এই হলগুলো শিক্ষার্থীদের জন্যই, তাই এগুলো পুনরুদ্ধার করতেই হবে।”
ছাত্রদলের সদস্য সচিব শামসুল আরেফিন বলেন, “হল দখলমুক্ত করতে নির্দিষ্ট সময়সীমা বেঁধে দেওয়া হয়েছে। এই সময়ের মধ্যে তারা স্বেচ্ছায় সরে না গেলে পরবর্তীতে উচ্ছেদ কার্যক্রম পরিচালনা করা হবে। কোনো অপশক্তির কাছে আমরা নতি স্বীকার করবো না।”
তিনি আরো অভিযোগ করেন, “অতীতে খতিয়ান জালিয়াতির মাধ্যমে এসব হল দখল করা হয়েছে এবং এ বিষয়ে মামলা চলমান রয়েছে।” প্রয়োজনে ভুয়া দলিল ও দখলের বিরুদ্ধে নতুন করে আইনি পদক্ষেপ নেওয়া হবে বলেও জানান তিনি।
এদিকে শাখা ছাত্রদলের আহ্বায়ক মেহেদী হাসান হিমেল বলেন, “বেদখলকৃত হলগুলোতে থাকা পরিবারগুলো প্রথমে সাত দিনের সময় চাইলেও মানবিক দৃষ্টিকোণ থেকে ১০ দিনের সময় দেওয়া হয়েছে। আগামী ১০ দিনের মধ্যে তারা সরে যাবেন, এটাই আমাদের প্রত্যাশা। এর পর আর সময় দেওয়া হবে না।”
ঢাকা/লিমন/জান্নাত
আদানির সঙ্গে চুক্তি সংশোধনের বিষয়টি বিবেচনাধীন: জ্বালানিমন্ত্রী