ঢাকা     সোমবার   ১৬ মার্চ ২০২৬ ||  চৈত্র ৩ ১৪৩২ || ২৭ রমজান ১৪৪৭ হিজরি

Risingbd Online Bangla News Portal

চিকিৎসার ফাঁকে নামমাত্র কেনাকাটা, নিউ মার্কেটে নেই চিরচেনা সেই বাংলাদেশি ভিড়

কলকাতা ব্যুরো || রাইজিংবিডি.কম

প্রকাশিত: ১৮:৫৯, ১৬ মার্চ ২০২৬   আপডেট: ১৯:০৮, ১৬ মার্চ ২০২৬
চিকিৎসার ফাঁকে নামমাত্র কেনাকাটা, নিউ মার্কেটে নেই চিরচেনা সেই বাংলাদেশি ভিড়

ঈদ ঘিরে কলকাতার নিউ মার্কেটে ক্রেতাদের ভিড়

গৃহস্থের দোরগোড়ায় খুশির ঈদ। তার আগে জমজমাট কলকাতার নিউ মার্কেট। এই মুহূর্তে বেচাকেনায় ব্যস্ত ক্রেতা থেকে বিক্রেতা। তবে এবারেও বাংলাদেশি ক্রেতাদের অভাবে কোথাও যেন তাল কেটেছে শহরের অন্যতম এই ঐতিহ্যবাহী বাজারে।

ব্যবসায়ীরা জানাচ্ছেন, এবার ঈদের কেনাকাটায় বাংলাদেশিদের উপস্থিতি তুলনামূলকভাবে কম। চিকিৎসা ভিসায় যারা কলকাতায় এসেছেন, তারাই কিছুটা কেনাকাটা করেছেন। তবে তাদের বেশিরভাগ অর্থ ব্যয় হয়েছে চিকিৎসাতেই।

আরো পড়ুন:

তবে ব্যবসায়ীরা আশাবাদী। তাদের মতে, বাংলাদেশে নির্বাচিত সরকার আসার পর দুই দেশের সহযোগিতায় দ্রুত ভ্রমণ ভিসার জটিলতা কাটবে। যদিও চিকিৎসার পাশাপাশি অনেক বাংলাদেশি শেষ মুহূর্তে কিছু কেনাকাটাও সেরে নিচ্ছেন। সব মিলিয়ে আগের তুলনায় শহরে বাংলাদেশিদের সংখ্যা কিছুটা বেড়েছে বলেই মনে করছেন ব্যবসায়ীরা।

গত দুবছর বাদ দিলে একসময় ঈদের আগে বাংলাদেশি ক্রেতাদের ভিড়ে থিকথিক করত কলকাতার নিউ মার্কেট। কিন্তু চলতি বছর সেই চেনা ভিড় নেই। ব্যবসায়ীদের কথায়, বাজার খুব ভালোও নয়, আবার খুব খারাপও নয়- মোটামুটি চলছে। শেষ বেলায় কিছুটা ভিড় জমেছে, মূলত বাংলার বিভিন্ন জেলার ক্রেতা এবং সীমিত সংখ্যক বাংলাদেশিদের উপস্থিতিতে।

নিউ মার্কেটের একটি নামি থ্রিপিসের দোকানের ম্যানেজার চুনরীলাল বলেন, “বাজার মোটামুটি আছে। গত বছরের তুলনায় বাংলাদেশি ক্রেতা কিছুটা বেড়েছে ঠিকই, তবে তারা মূলত চিকিৎসা ভিসায় এসেছেন। চিকিৎসার পর যা থাকে, তা দিয়েই কিছু কেনাকাটা করেছেন। ফলে আগের মতো বেচাকেনা হয়নি।”

তার মতে, দ্রুত ভ্রমণ ভিসা চালু হওয়া জরুরি। এ জন্য ভারত ও বাংলাদেশের দুই দেশের সরকারকেই আন্তরিক হতে হবে।

তিনি আরও জানান, বহু বাংলাদেশি ভ্রমণ ভিসা খোলার অপেক্ষায় রয়েছেন। ভিসা চালু হলে দুই বাংলার ব্যবসা-বাণিজ্যের ক্ষেত্রেই তা মঙ্গলজনক হবে।

অন্য এক ব্যবসায়ীর কথায়, “বাজার আগের তুলনায় মোটামুটি। কিন্তু বাংলাদেশি ক্রেতা না এলে নিউ মার্কেটের বেচাকেনা বাড়ে না। কারণ পর্যটকদের কাছে কেনাকাটার জন্য এটিই প্রধান জায়গা। ভিসা বন্ধ থাকলে মানুষ আসবে কীভাবে? তবে আমরা আশাবাদী, খুব শিগগিরই এই সমস্যার সমাধান হবে।”

দোকানপাটে কোথাও কোথাও বাংলাদেশি ক্রেতা দেখা গেলেও ফুটপাতের ব্যবসায়ীরা কার্যত ধুঁকছেন। ফুটপাতের ব্যবসায়ী বিকাশ সিং বলেন, “আমাদের প্রায় ৬০ শতাংশ ক্রেতাই বাংলাদেশি। তারা না থাকায় বড় সমস্যায় পড়েছি।”

অন্যদিকে হোটেল ব্যবসায়ীরা জানাচ্ছেন, বাংলাদেশিদের আসার গতি খুব বাড়েনি, তবে আগের তুলনায় মন্থরভাব কিছুটা কমেছে। গত দুবছর বাংলাদেশি পর্যটকদের প্রায় দেখা যায়নি, ধীরে ধীরে সেই জট কাটতে শুরু করেছে।

পেট্রাপোল–বেনাপোল ইমিগ্রেশনের তথ্য অনুযায়ী, প্রতিদিন প্রায় দেড় হাজার থেকে দুই হাজার যাত্রী এই সীমান্ত দিয়ে যাতায়াত করছেন। এদের বেশিরভাগই চিকিৎসা ভিসাধারী। ভ্রমণ ভিসায় যাত্রী সংখ্যা এখনও খুবই কম।

তবে চিকিৎসার পাশাপাশি অনেকেই শেষ মুহূর্তে সেরে নিচ্ছেন ঈদের কেনাকাটা। খুলনা থেকে আসা সেলিম বলেন, “ঈদের আগে দেশে ফিরব। খালি হাতে যাওয়া যায় না, তাই কিছু কেনাকাটা করে নিচ্ছি।” মারকুইস স্ট্রিটে থাকা বাংলাদেশি জুয়েল জানান, “মায়ের চিকিৎসা শেষ হয়েছে, এখন তিনি সুস্থ। দেশে ফেরার আগে পরিবারের কিছু আবদার মেটাতে একটু কেনাকাটা করছি।”

এদিকে নিউ মার্কেটে এখন ভিড় জমাচ্ছেন পশ্চিমবঙ্গের বিভিন্ন জেলার ক্রেতারাও। কেনাকাটার ফাঁকেই নিউ মার্কেটের মুক্ত এলাকায় সেরে নিচ্ছেন ইফতার। চারদিকে হরেক রকম ইফতার- বাহারি সরবত, কাটা ফল, ভাজাপোড়া। পাশের হগ মার্কেট থেকে কেউ কেউ কিনে নিচ্ছেন খেজুর, ড্রাই ফ্রুটস, ইত্যাদি। ইফতার শেষে নামাজ, তারপর আবার জমে উঠছে কেনাকাটা। দোকানপাটও খোলা থাকছে অনেক রাত পর্যন্ত। 

সব মিলিয়ে গত দুবছরের তুলনায় শহরে বাংলাদেশিদের আনাগোনা কিছুটা বেড়েছে। ব্যবসায়ীরা আশা করছেন, খুব শিগগিরই ভ্রমণ ভিসার জটিলতা কাটলে দুই বাংলার মানুষের যাতায়াত আরও বাড়বে- আর সেই সঙ্গে ফিরবে নিউ মার্কেটের চেনা জমজমাট ঈদের বাজার।

ঢাকা/সুচরিতা/ফিরোজ

সম্পর্কিত বিষয়:

সর্বশেষ

পাঠকপ্রিয়