ঢাকা     বৃহস্পতিবার   ০৮ জানুয়ারি ২০২৬ ||  পৌষ ২৪ ১৪৩২

Risingbd Online Bangla News Portal

টাঙ্গাইল-৮ আসন

বিএনপির প্রার্থীর চেয়ে স্বতন্ত্রের নগদ টাকা ১৭ গুণ বেশি

টাঙ্গাইল প্রতিনিধি || রাইজিংবিডি.কম

প্রকাশিত: ১৬:২৭, ৬ জানুয়ারি ২০২৬  
বিএনপির প্রার্থীর চেয়ে স্বতন্ত্রের নগদ টাকা ১৭ গুণ বেশি

আহমেদ আযম খান এবং সালাউদ্দিন আলমগীর রাসেল

ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে টাঙ্গাইলের আটটি সংসদীয় আসনে ৩৭ প্রার্থীর মনোনয়নপত্র গ্রহণ করেছে নির্বাচন কমিশন (ইসি)। নানা ত্রুটির কারণে ২৮ জনের মনোনয়ন বাতিল করা হয়েছে।

প্রার্থীদের পেশ করা হলফনামা থেকে জানা গেছে, টাঙ্গাইল-৮ (বাসাইল-সখীপুর) আসনে বিএনপি মনোনীত প্রার্থী কেন্দ্রীয় দলটির কেন্দ্রীয় কমিটির ভাইস চেয়ারম্যান আহমেদ আযম খানের চেয়ে স্বতন্ত্র প্রার্থী সালাউদ্দিন আলমগীর রাসেলের নগদ টাকা প্রায় ১৭ গুণ বেশি।

আরো পড়ুন:

স্বতন্ত্র প্রার্থী লাবিব গ্রুপের চেয়ারম্যান শিল্পপতি সালাউদ্দিন আলমগীর রাসেল বছরে ৩ কোটি টাকার বেশি সম্মানি পান। নির্বাচনে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করতে এসে বিদেশি নাগরিকত্ব ছেড়েছেন তিনি। বিএনপির প্রার্থী দলের কেন্দ্রীয় ভাইস চেয়ারম্যান অ্যাডভোকেট আহমেদ আযম খানের চেয়েও তার স্ত্রীর সম্পদ বেশি।

সালাউদ্দিন আলমগীর রাসেল নির্বাচন কমিশনে দেওয়া হলফনামায় তার বিরুদ্ধে দুটি মামলা থাকার তথ্য উল্লেখ করেছেন। একটি মামলা খারিজ হয়েছে, অপর মামলা থেকে অব্যহতি পেয়েছেন। তিনি স্নাতক পাস করেছেন এবং পেশা ব্যবসা। নির্বাচনে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করার জন্য তিনি অ্যান্টিগুয়া অ্যান্ড বারমুডার নাগরিকত্ব ছেড়েছেন। 

সালাউদ্দিন আলমগীর রাসেলের আয়ের উৎস— বাড়ি ভাড়া থেকে ১ কোটি ৪৬ লাখ ৪৬ হাজার টাকা, শেয়ার সঞ্চয়পত্র থেকে আয় ৩ কোটি ৯০ লাখ ৪১ হাজার ৬২১ টাকা, নিজস্ব প্রতিষ্ঠান থেকে সম্মানি পান ২ কোটি ৯৬ লাখ ১৬ হাজার এবং ব্যাংকের বোর্ড মিটিং থেকে পান ১ লাখ ৭০ হাজার টাকা।

অস্থাবর সম্পত্তির মধ্যে নিজের নামে নগদ তহবিল আছে ১২ কোটি ৯১ লাখ ৬৬ হাজার ৮৬৫ টাকা এবং স্ত্রীর নামে ৭ কোটি ২৯ লাখ ৮০ হাজার ৮৬৩ টাকা। ব্যাংকে জমা আছে ৩১ লাখ ১৫ হাজার ২১৫ টাকা, স্ত্রীর নামে আছে ৩ কোটি ৭০ লাখ ৫১ হাজার ৭৯৪ টাকা। বন্ড ও কোম্পানির শেয়ারের মূল্য ৭০ কোটি ৩০ লাখ টাকা, স্ত্রীর নামে আছে ৪৫ কোটি ২৫ লাখ টাকার শেয়ার। সালাউদ্দিন আলমগীর রাসেলের নিজের নামে কোনো গাড়ি নেই, স্ত্রীর নামে আছে ৩ কোটি ২২ লাখ ৯০ হাজার টাকার গাড়ি। ১ কোটি ৬০ লাখ টাকার ৮০ তোলা স্বর্ণ আছে সালাউদ্দিন আলমগীর রাসেলের, স্ত্রীর নামে আছে ৩ কোটি ৫০ লাখ টাকার ৮০ ভরি স্বর্ণ ও ৪ সেট হীরা। ইলেক্ট্রনিক সামগ্রী আছে ৭৯ লাখ ৬১ হাজার ৩৩৫ টাকার, স্ত্রীর আছে ২৫ লাখ টাকার ইলেক্ট্রনিক সামগ্রী। ২০ লাখ টাকার আসবাবপত্র আছে নিজের নামে, স্ত্রীর আছে ৫ লাখ টাকার আসবাব। ৩ লাখ ৫০ হাজার টাকা দামের একটি পিস্তল ও একটি শটগান আছে রাসেলের। উত্তরাধিকার সূত্রে তিনি ৪ কোটি ৫৬ লাখ ৬৪ হাজার ১৪ টাকার সম্পত্তি পেয়েছেন, স্ত্রীর আছে ৮ কোটি ৫৯ রাখ ৬৭ হাজার ৮৪৮ টাকার পৈত্রিক সম্পত্তি। 

সালাউদ্দিন আলমগীর রাসেলের অস্থাবর সম্পত্তির অর্জনকালীন মূল্য ৮৯ কোটি ৯২ লাখ ৯৬ হাজার ২২০ টাকা। স্ত্রীর অস্থাবর সম্পত্তি ৭০ কোটি ৪০ লাখ ৫০৫ টাকার।

স্থাবর সম্পত্তি হিসেবে ৬৭ লাখ ৪৮ হাজার ৪০০ টাকা মূল্যের ৫৪৬ শতাংশ কৃষিজমি আছে অস্থাবর সম্পত্তি। স্ত্রীর নামে ৫০ লাখ টাকার ৩৫৩.৫০ শতাংশ জমি আছে। নিজের নামে ১২ কোটি ১ লাখ ৪৯ হাজার ৬৬০ টাকার ৩০৮৮.২৯ শতাংশ অকৃষি জমি আছে। স্ত্রীর আছে ৩ কোটি ৬২ লাখ ৭০ হাজার টাকার ১৩৭.১০ শতাংশ অকৃষি জমি। নিজের নামে ঢাকার বারিধারা ও টাঙ্গাইলের সখীপুরে দুটি বাড়ি রয়েছে, যার দাম ১৪ কোটি ৬১ লাখ ২ হাজার ৯৮৩ টাকা। স্ত্রীর নামে ১৪ কোটি ৪১ লাখ ১৬ হাজার ৫৪৯ টাকা দামের চারটি বাড়ি আছে। ঢাকায় তিনটি বাড়ি ৪ কোটি ৯৯ লাখ ৫৭ হাজার ৫০০ টাকা মূল্যের। এছাড়াও স্ত্রীর নামে ৭টি বাড়ি রয়েছে, যার মূল্য ১০ কোটি ৫৮ লাখ ৩১ হাজার ১০০ টাকা। 

স্থাবর সম্পত্তির অর্জনকালীন বর্তমান মূল্য ৬৪ কোটি ৫৯ লাখ ১৭ হাজার ৩৮৬ টাকা। স্ত্রীর নামে স্থাবর সম্পত্তি আছে ৫৮ কোটি ২৪ লাখ ৩৫ হাজার ২৯৮ টাকার। 

সালাউদ্দিন আলমগীর রাসেল ২০২৫-২০২৬ অর্থবছরে আয়কর দিয়েছেন ৩ কোটি ১৪ লাখ ৪৯ হাজার ২১৭ টাকা। স্ত্রী আয়কর দিয়েছেন ৩ কোটি ৩ লাখ ৩১ হাজার ২৪১ টাকা।

বিএনপি মনোনীত প্রার্থী কেন্দ্রীয় বিএনপির ভাইস চেয়ারম্যান আহমেদ আযম খানের বিরুদ্ধে ১০টি মামলার মধ্যে দুটি মামলা আদেশের অপেক্ষোয় আছে। একটি মামলা থেকে খালাস পেয়েছেন তিনি। অপর সাতটি মামলা থেকে তিনি অব্যাহতি পেয়েছেন। হলফনামায় তিনি আয়ের উৎসের ঘরে কিছুই উল্লেখ করেননি।

অস্থাবর সম্পদ হিসেবে তিনি নগদ তহবিল ১৭ লাখ ৫০ হাজার টাকা এবং স্ত্রীর ১১ লাখ ৭৫ হাজার টাকা আছে বলে উল্লেখ করেছেন। ঢাকা ব্যাংকে জমা আছে ৬ লাখ ২২ হাজার ১৪৬ টাকা, অগ্রণী ব্যাংকে স্ত্রীর নামে আছে ৩ লাখ ২২ হাজার ১৩৩ টাকা। বন্ড ও শেয়ার আছে ১১ লাখ ১৯ হাজার ৯১০ টাকার, স্ত্রীর আছে ১১ লাখ ৯৯৬ টাকার শেয়ার। ব্যাংকে স্থায়ী আমানত আছে ৫৪ লাখ ২৭ হাজার ৮০০ টাকা, স্ত্রীর আছে ৮৫ লাখ ৫০ হাজার টাকা। ৪৩ লাখ টাকা মূল্যের একটি হার্ড জিপ গাড়ি ও ১৫ লাখ ৯০ হাজার টাকা মূল্যের একটি প্রাইভেটকার আছে। ২০ লাখ টাকা মূল্যের ১৫ ভরি স্বর্ণালঙ্কার আছে। স্ত্রীর আছে ২১ ভরি স্বর্ণালঙ্কার। ৪ লাখ ৫০ হাজার টাকা মূল্যের ইলেক্ট্রনিক সামগ্রী রয়েছে আহমেদ আযম খানের। ২ লাখ ৫০ হাজার টাকার আসবাবপত্র আছে। অস্থাবর সম্পত্তির বর্তমান মূল্য ১ কোটি ৭০ লাখ ৪০ হাজার টাকা এবং স্ত্রীর ১ কোটি ৪০ লাখ ৫০ হাজার টাকার অস্থাবর সম্পত্তি আছে।

স্থাবর সম্পদ হিসেবে কালিয়াকৈরে স্ত্রীর নামে ২৫ লাখ টাকার ৯২ শতাংশ কৃষিজমি আছে। সখীপুরের ঘেচুয়ায় ৪০ লাখ ৯২ হাজার টাকা মূল্যের ২৬৩ শতাংশ জমি আছে। ৫ লাখ ১০ হাজার টাকা মূল্যের ৩ কাঠা অকৃষি জমির ওপর জাইকা ভিলেজ আছে। নিজের নামে ঢাকার বিজয়নগরে ৩০ লাখ ৮৭ হাজার ৬০০ টাকা মূল্যের ২৫১৭ বর্গফুটের দুটি বাণিজ্যক ভবন আছে। স্ত্রীর নামে গুলশানে ৫০ লাখ টাকার ২৭৭০ বর্গফুটের একটি ফ্ল্যাট, বারিধারায় ৩১০০ বর্গফুটের একটি ফ্ল্যাট আছে, যার দাম ২ কোটি ১০ লাখ টাকা। 

আহমেদ আযম খানের স্থাবর সম্পত্তির বর্তমান মূল্য ২ কোটি ৭০ লাখ টাকা এবং স্ত্রীর স্থাবর সম্পত্তি ১৫ কোটি ৭০ লাখ টাকার। দায় হিসেবে ৫৬ লাখ এবং স্ত্রীর ১ কোটি ৫৩ লাখ উল্লেখ করেছেন। 

আহমেদ আযম খান ২০২৫-২০২৬ অর্থবছরে আয়কর দিয়েছেন ১০ লাখ ৩৯ হাজার ৭৭২ টাকা। স্ত্রী আয়কর দিয়েছেন ৭ লাখ ৭৮ হাজার ২৮২ টাকা।

ঢাকা/কাওছার/রফিক

সর্বশেষ

পাঠকপ্রিয়