Risingbd Online Bangla News Portal

ঢাকা     রোববার   ১১ এপ্রিল ২০২১ ||  চৈত্র ২৮ ১৪২৭ ||  ২৭ শা'বান ১৪৪২

যে কারণে মোটরসাইকেল দুর্ঘটনা বেশি

হাসিবুল ইলসাম মিথুন || রাইজিংবিডি.কম

প্রকাশিত: ১৫:০৪, ৬ মার্চ ২০২১   আপডেট: ১৬:৫৩, ৬ মার্চ ২০২১
যে কারণে মোটরসাইকেল দুর্ঘটনা বেশি

দেশে প্রতিদিনই সড়ক দুর্ঘটনার সংবাদ প্রকাশিত হচ্ছে গণমাধ‌্যমে।  এরমধ‌্যে সবচেয়ে বেশি মোটরসাইকেল দুর্ঘটনার খবর পাওয়া যাচ্ছে। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, বেপরোয়া গতি, দলবেঁধে প্রতিযোগিতা ছাড়াও ট্রাফিক তদারকির অভাবেই মোটরসাইকেল দুর্ঘটনার পরিমাণ বেড়েই চলেছে।  এসব দুর্ঘটনায় সারাজীবনের জন‌্য পঙ্গুত্বের পাশাপাশি প্রাণও হারাচ্ছেন অনেকে।

সম্প্রতি বাংলাদেশ প্রকৌশল বিশ্ববিদ্যালয়ের (বুয়েট) সড়ক ও দুর্ঘটনা গবেষণা ইনস্টিটিউট (এআরআই)-সূত্রে জানা গেছে, এশিয়ার দেশগুলোর মধ্যে মোটরসাইকেল দুর্ঘটনায় শীর্ষে বাংলাদেশ। প্রতি ১০ হাজার মোটরসাইকেলের মধ্যে বাংলাদেশে দুর্ঘটনার শিকার হচ্ছে ২৮ দশমিক ৪টি। বাংলাদেশের পর কম্বোডিয়ায় ১১ দশমিক ৯, লাওসে ১১ দশমিক ৫, থাইল্যান্ডে ১১ দশমিক ২, ভারতে ৯, মিয়ানমারে ৮ দশমিক ৬, মালয়েশিয়ায় ৪ দশমিক ৪, ভিয়েতনামে ৪ দশমিক ১, ইন্দোনেশিয়ায় ২ দশমিক ৫ এবং ভুটানে ২ দশমিক ১টি মোটরসাইকেল দুর্ঘটনা ঘটেছে।

সচেতন মহল বলছে, রাজধানীতে কয়েক বছরে মোটরসাইকেল রাইড শেয়ারিং ব্যাপকভাবে বেড়েছে। এই খাতের কোম্পানিগুলোর নিবন্ধনের বাইরে অনেকে মোটরসাইকেলে যাত্রী পরিবহন করেন।  চালকদের অধিকাংশই প্রশিক্ষিত নন। তারা ঠিকভাবে ট্রাফিক সিগন্যাল না মেনে রাস্তায় মোটরসাইকেল চালান। যাত্রীদের জন্য নিম্নমানের হেলমেট রাখেন। এছাড়া ফাঁক গলে আগে যাওয়ার প্রবণতারও প্রবল। এসব কারণে দুর্ঘটনায় প্রাণহানি ঘটে বলেও তারা মনে করেন। 

এ বিষয়ে বাংলাদেশ যাত্রীকল্যাণ সমিতি মহাসচিব মো. মোজাম্মেল হক চৌধুরী বলেন, ‘বর্তমানে দেশের মোটরসাইকেল দুর্ঘটনার শতকরা ৭৪ শতাংশই মফস্বলে ঘটে। এর বড় কারণ—সেখানে ট্রাফিক তদারকি কম। এছাড়া, মফস্বলের যাত্রীরা মহাসড়কে বেশি যাতায়াত করেন বলে দুর্ঘটনা বেশি ঘটে। ’

যাত্রীকল‌্যাণ সমিতির মহাসচিব বলেন, ‘এখন যুব সমাজ সময় পেলেই বাইক নিয়ে প্রতিযোগিতায় নেমে পড়ে। বন্ধুরা দলবেঁধে এক জায়গা থেকে অন্য জায়গায় বাইক রাইড করেন। তারা একে অন‌্যের সঙ্গে প্রতিযোগিতা করে চালান। আবার এই সব বাইক চালক খুব একটা দক্ষও নন। কারও কারও ড্রাইভিং লাইসেন্সও নেই। এর ফলে বাইক দুর্ঘটনায় তারা প্রাণ হারাচ্ছে।’

মো. মোজাম্মেল হক বলেন, ‘মফস্বলে সড়কে ট্রাফিক তদারকি বাড়াতে হবে। নয়তো মোটরসাইকেল দুর্ঘটনা প্রতিরোধ করা কঠিন হয়ে যাবে। সবাইকে একটা নিয়মের মধ্যে আনতে হবে। নিয়ম-শৃঙ্খলার মধ্যে দিয়ে মোটরসাইকেল চালালে দুর্ঘটনাও অনেক কমে যাবে। ’

সড়ক দুর্ঘটনা নিয়ে গবেষণা করছেন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়য়ের শিক্ষক মোহাম্মদ মাহামুদ হোসেন। তিনি বলেন, ‘বর্তমানে রাজধানীসহ সারাদেশে যে হারে মোটরসাইকেল দুর্ঘটনা বেড়েছে, তা খুবই আশঙ্কাজনক। এখন রাজধানীতে রাইড যারা শেয়ার করছেন, তারা অনেকেই নিয়মনীতি না মেনেই মোটরসাইকেল চালাচ্ছেন। অধিকাংশ চালকই ভালো মানের হেলমেট ব্যবহার করেন না।’ 

মোহাম্মদ মাহামুদ হোসেন বলেন, ‘বাইকারদের হেলমেটের মান পরীক্ষা করা দরকার। বাংলাদেশ স্ট্যান্ডার্ডস অ‌্যান্ড টেস্টিং ইনস্টিটিউশন (বিএসটিআই) যেমন বাজারের খাদ্যজাত পণ‌্যসহ সব কিছুর মান নিয়ন্ত্রণ করে, ঠিক তেমনি বিএসটিআইয়ের নজরদারি থাকা উচিত বাজারের এই সব হেলমেটের দিকেও। তাহলে বাজারে হেলমেটের বদলে প্লাস্টিকের বাটি বিক্রি বন্ধ হবে।’ তিনি বলেন, ‘চালক ও আরোহীকে ভালো মানের হেলমেট পরতে হবে। রাইড শেয়ারিংয়ে চালকদের প্রতিযোগিতা কমাতে হবে। সচেতনতা বাড়াতে হবে। একইসঙ্গে  ট্রাফিক আইন কঠোরভাবে প্রয়োগ করতে হবে। তাহলে সড়কে মোটরসাইকেল দুর্ঘটনা-প্রাণহানি কমাতে পারে।’

এ বিষয়ে উবারের কর্মকর্তা মোহাম্মদ তামিম হোসেন বলেন, ‘রাইড শেয়ারিং অ্যাপের বাহনগুলোর দুর্ঘটনার সংখ্যা বর্তমানে বেড়েছে। তবে, আমরা সব সময় চালকদের দক্ষতার দিকে বেশি নজর দিয়ে থাকি। তারপরও আমাদের কোম্পানি দুর্ঘটনায় মৃত্যু ও স্থায়ী পঙ্গুত্বের জন্য ২ লাখ টাকা ও হাসপাতালে ভর্তি হলে সর্বোচ্চ ১ লাখ টাকা বিমা সুবিধা দেওয়া হয়। এছাড়া, আমাদের পক্ষ থেকে চালকদের সেরা মানের হেলমেট ব্যবহারে উৎসাহিত করি। আমরা নিজেরাও প্রথমে হেলমেট সরবরাহ করেছিলাম।’ 

যদি কেউ রেজিস্ট্রেশন বা লাইসেন্স মোটরসাইকেল চালালে তার বিরুদ্ধে আইনি ব‌্যবস্থা নেওয়া হয় বলে জানিয়েছেন ঢাকা মেট্রোপলিটন পুলিশ (ডিএমপি)-এর অতিরিক্ত উপ-কমিশনার (পিআর অ‌্যান্ড মিডিয়া) মো. ইফতেখারুজ্জামান। তিনি আরও বলেন, ‘প্রথমত, কেউ মোটরযান আইন ভাঙলে তাকে আইনের আওতায় আনা হয়। দ্বিতীয়ত, ট্রাফিক সপ্তাহসহ বিভিন্ন সময়ে জনগণকে সচেতন করি। লিফলেট বিতরণ করে সতর্ক করি। তাদের হেলমেট পরতে বলি। ’

ডিএমপির অতিরিক্ত উপ-কমিশনার বলেন, ‘দুর্ঘটনার কয়েকটি কারণ থাকতে পারে। যেমন যিনি চালক, তিনি নিজেই ডেসপারেট।  বেপরোয়া গতির কারণে যখন দুর্ঘটনা ঘটান, তখন আইন অনুযায়ী পদক্ষেপ নেওয়া ছাড়া কিছু করার থাকে না। তাই বলবো, যারা মোটরসাইকেল চালাবেন, তারা অবশ্যই সাবধানতার সঙ্গে চালাবেন।’সাবধানতা ছাড়া এই দুর্ঘটনা রোধ করা কষ্টসাধ্য বলেও তিনি মন্তব‌্য করেন। 

ঢাকা/ হাসিবুল/এনই

সম্পর্কিত বিষয়:

সর্বশেষ

পাঠকপ্রিয়