রান বন্যায় ভাসল ওয়াংখেড়ে, ওয়েস্ট ইন্ডিজের সামনে অসহায় জিম্বাবুয়ে
টি-টোয়েন্টিতে কীভাবে রান তুলতে হয়, আর কীভাবে ভয়ংকর হয়ে উঠতে হয়—ওয়াংখেড়ের রানপ্রসবা উইকেটে তা চোখে আঙুল দিয়ে দেখিয়ে দিল ওয়েস্ট ইন্ডিজ। তুলনামূলক ছোট বাউন্ডারির সুবিধা নিয়ে জিম্বাবুয়ের বিপক্ষে চার-ছক্কার বন্যা বইয়ে দেন ক্যারিবীয়ান ব্যাটাররা। ২২ গজে যেন বসেছিল রান উৎসব।
৩৭.৪ ওভারের ম্যাচে জিম্বাবুয়ে কার্যত টিকে ছিল মাত্র দুই ওভার। বাকিটা পুরোটা সময় ছিল ওয়েস্ট ইন্ডিজের একক আধিপত্য। ম্যাচটি ঘিরে আগেই আলোচনা ছিল তুঙ্গে। কারণ, অস্ট্রেলিয়া ও শ্রীলঙ্কাকে হারিয়ে সুপার এইটে ওঠা জিম্বাবুয়েকে মোটেই হালকাভাবে নেওয়ার সুযোগ ছিল না। কিন্তু মাঠের লড়াইয়ে তাদের আর খুঁজেই পাওয়া গেল না।
রেকর্ড গড়ে জিম্বাবুয়েকে ১০৭ রানের বড় ব্যবধানে হারিয়ে সুপার এইট পর্বে দুর্দান্ত সূচনা করেছে ওয়েস্ট ইন্ডিজ। আগে ব্যাট করে ৬ উইকেটে ২৫৪ রান তোলে তারা—যা এবারের টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপে সর্বোচ্চ দলীয় সংগ্রহ এবং ইতিহাসে দ্বিতীয় সর্বোচ্চ। জবাবে পাহাড়সম লক্ষ্য তাড়া করতে নেমে শুরু থেকেই উইকেট হারাতে থাকে জিম্বাবুয়ে। নির্ধারিত ওভারের আগেই গুটিয়ে যায় তাদের ইনিংস, আর একতরফা জয় নিশ্চিত করে ওয়েস্ট ইন্ডিজ। ১৭.৪ ওভারে ১৪৭ রান করে তারা।
ম্যাচের সেরা সিমরন হেটমায়ার। দারুণ ফর্মে থাকা এই ব্যাটসম্যান ৩৪ বলে ৭টি করে চার ও ছক্কায় ৮৫ রান করেন। চার-ছক্কার সমারোহে ১৯ বলে ফিফটি তুলে নেন হেটমায়ার। অথচ ম্যাচের শুরুতেই তাকে জীবন দেন মুসেকিওয়া। ফাইন লেগে তার সহজ ক্যাচ ছেড়ে ম্যাচটাই ফেলে দেন তিনি। ৭০ রানে এই ফিল্ডারই সিমরনকে আরেকবার জীবন দেন। ততক্ষণে যা ক্ষতি হওয়ার হয়ে গিয়েছিল। আক্রমণাত্মক ব্যাটিংয়ে বোলারদের তুলোধুনো করে সিমরন নিজের সামর্থ্যের জানান দিয়েছেন দারুণভাবে।
টস হেরে ব্যাটিং করতে নেমে ২ ওভারে মাত্র ৭ রান পায় ওয়েস্ট ইন্ডিজ। তৃতীয় ওভারে সিমন ক্রিজে আসার পর চতুর্থ ওভারে মুজারাবানির বলে সীমানায় ক্যাচ দেন। কিন্তু মুসেকিওয়া সেই ক্যাচ নিয়ে ব্যর্থ হন। এরপর তাকে আর থামানো যায়নি। ১৯ বলে ফিফটির পর সেঞ্চুরির দিকে এগিয়ে যেতে থাকেন।
তৃতীয় উইকেটে তাকে সঙ্গ দেন রোভমান পাওয়েল। ১২২ রানের জুটি গড়েন তারা। মাত্র ৫২ বলে এলোমেলো করে দেন স্কোরবোর্ড। এই জুটিতেই ম্যাচের চিত্র পাল্টে যায়।
৭-১৫ এই ৯ ওভারে ওয়েস্ট ইন্ডিজ ১২৪ রান পায়। ততক্ষণ পাওয়েল ও সিমরন ক্রিজে ছিলেন। শেষে বাকিরা ঝড় তোলেন। প্রথম ১০ ওভারে ১১৫ রান তোলা ওয়েস্ট ইন্ডিজ শেষ ১০ ওভারে পায় ১৩৯ রান।
ওয়েস্ট ইন্ডিজের ইনিংসে ছিল ছক্কা বৃষ্টি। ১৯ ছক্কা হাঁকিয়েছেন হেটমায়ার, পাওয়েলরা। যা টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপে যৌথভাবে সর্বোচ্চ। ২০১৪ সালে সিলেটে আয়ারল্যান্ডের বিপক্ষে নেদারল্যান্ডস ১৯টি ছক্কা হাঁকিয়েছিল।
পাওয়েল ৩৫ বলে ৫৯ রান করেন ৪টি করে চার ও ছক্কায়। এছাড়া রাদারফোর্ড ১৩ বলে ৩১, শেফার্ড ১০ বলে ২১ এবং হোল্ডার ৪ বলে ১৩ রান করলে রেকর্ড রান ছুঁয়ে ফেলে টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপের দুইবারের চ্যাম্পিয়নরা।
জিম্বাবুয়ের দুই পেসার রিচার্ড গাভারা ও ব্লেসিং মুজারাবানি ২টি করে উইকেট নেন।
জবাব দিতে নেমে জিম্বাবুয়ে ২০ রানে ৩ উইকেট হারায়। সেখান থেকে ডিয়ন মায়ার্স ও সিকান্দার রাজা ৩২ রানের জুটি গড়েন। ডিয়ন ফেরার পর রাজার নতুন সঙ্গী হন টনি মুয়োনগা। তারা যোগ করেন ৪২ রান। দলীয় শতরানের ঠিক আগে গুদাকেশ মোতির বলে সিকান্দার রাজা (২৭) ক্যাচ দিলে জিম্বাবুয়ের ব্যাটিংয়ের প্রাণ চলে যায়। ৯৪ থেকে ১০৩, অর্থ্যাৎ ১০ রান তুলতে জিম্বাবুয়ে ৫ উইকেট হারায়। ম্যাচের ভাগ্য তখন লিখা হয়ে যায়।
তবুও ব্র্যাড ইভান্স চেষ্টা করেছিলেন। তার ২১ বলে ৫ ছক্কা ও ২ চারে সাজানো ৪৩ রানের ইনিংস পরাজয়ের ব্যবধান কমিয়ে ওয়েস্ট ইন্ডিজের জয় বিলম্বিত করে। ক্যারিবীয়ান বোলারদের মধ্যে আকিল হোসেন ৩ ও গুদাকেশ মোতি ৪ উইকেট নেন।
১০৭ রানের বিশাল জয়ের ফলে ওয়েস্ট ইন্ডিজের রান রেট এখন তুঙ্গে, ৫.৩৫০।
ঢাকা/ইয়াসিন