ঢাকা     সোমবার   ১২ জানুয়ারি ২০২৬ ||  পৌষ ২৮ ১৪৩২

Risingbd Online Bangla News Portal

কুষ্টিয়ায় জলাতঙ্ক ভ্যাকসিনের তীব্র সংকট

কুষ্টিয়া প্রতিনিধি || রাইজিংবিডি.কম

প্রকাশিত: ০৯:৩৬, ১২ জানুয়ারি ২০২৬   আপডেট: ০৯:৩৭, ১২ জানুয়ারি ২০২৬
কুষ্টিয়ায় জলাতঙ্ক ভ্যাকসিনের তীব্র সংকট

কুষ্টিয়া জেনারেল হাসপাতালের জলাতঙ্ক নিয়ন্ত্রণ কেন্দ্র

কুষ্টিয়ায় জলাতঙ্ক (র‌্যাবিস) প্রতিরোধী ভ্যাকসিনের তীব্র সংকট দেখা দিয়েছে। সরকারি হাসপাতাল, উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স, এমনকি ফার্মেসিগুলোতেও টাকা দিয়ে এই রোগের ভ্যাকসিন মিলছে না। দীর্ঘদিন ধরে ভ্যাকসিন না পাওয়ায় চরম ভোগান্তিতে পড়েছেন আক্রান্ত রোগী ও তাদের স্বজনরা। ফলে হতাশ হয়ে বাড়ি ফিরতে হচ্ছে তাদের।

মায়ের জন্য ভ্যাকসিনের খোঁজে থাকা তামিম ইসলাম বলেন, “আমার মাকে ৭-৮ দিন আগে একটি বিড়াল কামড়েছে। এখন পর্যন্ত দুই ডোজ ভ্যাকসিন দেওয়া হয়েছে। এখন আর ভ্যাকসিন পাচ্ছি না। কুষ্টিয়ার আমিন ফার্মেসি এবং ইনসেপ্টা কোম্পানির ডিপোতেও খোঁজ করেও ভ্যাকসিন পাইনি। আগামী সপ্তাহে পাওয়া যেতে পারে বলে আশ্বাস দেওয়া হয়েছে।”

আরো পড়ুন:

জেলার মিরপুর উপজেলা থেকে ভ্যাকসিন নিতে আসা প্রদীপ হালদার বলেন, “বিড়ালের কামড়েছে, এ কারণে ভ্যাকসিন নিতে এসেছি। কুষ্টিয়ার কোথাও ভ্যাকসিন নেই। শুনেছি, কিছুদিন ধরে নাকি এই ভ্যাকসিনের সংকট চলছে। কুষ্টিয়া বড় জেলা হওয়া সত্ত্বেও জলাতঙ্কের ভ্যাকসিন না পাওয়া খুবই দুঃখজনক। যাদের কুকুর, বিড়াল ও বেজিতে কামড়েছে, তাদের অবস্থা কতটা ভয়াবহ তা ভাবতেই ভয় লাগে। সময়মতো ভ্যাকসিন না পেলে জীবন ঝুঁকিতে পড়ার সম্ভাবনা রয়েছে।” 

কুষ্টিয়া শহরের মেরিন ফার্মেসির স্বত্বাধিকারী ক্যাভিয়াল নুর বাপ্পি বলেন, “আমাদের ফার্মেসিতে প্রতিদিন গড়ে ৪০ থেকে ৪৫টি র‌্যাবিস ভ্যাকসিন বিক্রি হতো। আরো অনেক ফার্মেসিতে এই ভ্যাকসিন পাওয়া যেতো। কয়েকটি ওষুধ প্রস্তুতকারী প্রতিষ্ঠান এই ভ্যাকসিন বাজারে সরবরাহ করে। ইনসেপ্টা মাঝে মধ্যে দিলেও পপুলার দীর্ঘদিন ধরেই সাপ্লাই বন্ধ রেখেছে।”

কুষ্টিয়া জেনারেল হাসপাতালের জলাতঙ্ক বিভাগের কর্মকর্তা মোহাম্মদ রাজু আহমেদ বলেন, “সরকারি পর্যায়ে বর্তমানে ভ্যাকসিন সরবরাহ করা সম্ভব হচ্ছে না। বাইরের বাজারেও সহজে পাওয়া যাচ্ছে না। কুকুর, বিড়াল, বানর ও বেজির কামড়ে আক্রান্ত রোগীদের জলাতঙ্কের ভ্যাকসিন দিতে হয়।” 

কুষ্টিয়া ২৫০ শয্যাবিশিষ্ট জেনারেল হাসপাতালের আবাসিক মেডিকেল অফিসার (আরএমও) ডা. হোসেন ইমাম বলেন, “জলাতঙ্ক রোগের জন্য যে র‌্যাবিস ভ্যাকসিনটি আমরা ব্যবহার করি, প্রায় ছয় মাস ধরে সরকারি পর্যায়ে সরবরাহ নেই। গত এক মাস ধরে পরিস্থিতি আরো ভয়াবহ হয়ে উঠেছে।” 

তিনি বলেন, “বেসরকারিভাবে যে দুটি কোম্পানি ভ্যাকসিন সরবরাহ করত, তারাও বর্তমানে দিতে পারছে না। ফলে রোগীরা চরম ভোগান্তিতে পড়েছেন। বিষয়টি নিয়ে আমরা বৈঠক করেছি এবং ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষকে জানিয়েছি। আশা করছি দ্রুত সংকটের সমাধান হবে।”

ঢাকা/কাঞ্চন/মাসুদ

সম্পর্কিত বিষয়:

সর্বশেষ

পাঠকপ্রিয়