সিডনিতে রুটের ‘রেকর্ড’ শতক, পাল্টা আক্রমণে জমিয়ে দিল অজিরা
টেস্ট ক্রিকেটের অমরত্ব যেন জো রুটের ব্যাটে নতুন করে রূপ পাচ্ছে। সিডনি ক্রিকেট গ্রাউন্ডে (এসসিজি) অ্যাশেজের শেষ টেস্টের দ্বিতীয় দিনটি ছিল রুটের ব্যক্তিগত কীর্তি আর অস্ট্রেলিয়ার লড়াকু প্রত্যাবর্তনের এক মিশেল। একদিকে রিকি পন্টিংকে স্পর্শ করা রুটের ১৬০ রানের মহাকাব্যিক ইনিংস। অন্যদিকে ট্রাভিস হেডের বিধ্বংসী ফিফটিতে সিডনি টেস্ট এখন রোমাঞ্চকর মোড়ে দাঁড়িয়ে।
পন্টিংয়ের পাশে রুট, ধরাছোঁয়ার বাইরে শচীন?
আজ সকালে সিডনির বাইশ গজে নিজের ৪৩তম টেস্ট সেঞ্চুরি পূর্ণ করেন জো রুট। এই অর্জনের মধ্য দিয়ে তিনি অস্ট্রেলিয়ার কিংবদন্তি রিকি পন্টিংয়ের রেকর্ড ছুঁয়ে টেস্ট ইতিহাসের তৃতীয় সর্বোচ্চ সেঞ্চুরিয়ান হওয়ার গৌরব অর্জন করেন। রুটের এই ইনিংসে ছিল ১৫টি শৈল্পিক চারের মার। মূলত তার ২৪২ বলে সাজানো ১৬০ রানের ওপর ভর করেই ইংল্যান্ড তাদের প্রথম ইনিংসে ৩৮৪ রানের শক্ত পুঁজি পায়। শেষ দিকে মাইকেল নেসেরের তোপে মাত্র ৯ রানে ৪ উইকেট না হারালে ইংলিশদের সংগ্রহ আরও বড় হতে পারত।
জুটি ও পতনের গল্প:
ইংল্যান্ডের ইনিংসটি ছিল রুটের কাঁধে ভর করে এগিয়ে যাওয়ার এক গল্প। হ্যারি ব্রুক ব্যক্তিগত ৮৪ রানে আউট হয়ে সেঞ্চুরি মিস করলেও রুটের সাথে তার ১৬৯ রানের জুটিটিই ভিত্তি গড়ে দেয়। এরপর জেমি স্মিথ ও উইল জ্যাকসকে সঙ্গে নিয়ে আরও দুটি কার্যকর জুটি গড়ে রুট ইংল্যান্ডকে ৪০০-র কাছাকাছি নিয়ে যান। অজি বোলারদের মধ্যে নেসার ৬০ রানে ৪ উইকেট শিকার করে ইনিংসের ইতি টানেন।
হেডের প্রতি-আক্রমণ ও অজিদের জবাব:
জবাবে ব্যাট করতে নেমে অস্ট্রেলিয়া বুঝিয়ে দিয়েছে তারা ছেড়ে কথা বলবে না। যদিও ব্যক্তিগত ২১ রানে জ্যাক ওয়েদার্যাল্ডকে ফিরিয়ে ব্রেক-থ্রু এনে দিয়েছিলেন বেন স্টোকস। তবে আসল ঝড়টা শুরু করেন ট্রাভিস হেড। মারনাস লাবুশেনের (৪৮) সঙ্গে ১০৫ রানের জুটি গড়ে নিয়ন্ত্রণ নেন তিনি। মাত্র ৮৭ বলে ৯১ রানের এক বিধ্বংসী ইনিংস খেলে অপরাজিত আছেন হেড, যার ইনিংসে রয়েছে ১৫টি চার।
দ্বিতীয় দিন শেষে স্কোরকার্ড:
ইংল্যান্ড (১ম ইনিংস): ৩৮৪/১০ (৯৭.৩ ওভার)
অস্ট্রেলিয়া (১ম ইনিংস): ১৬৬/২ (৩৪.১ ওভার)
অবস্থান: অজিরা ২১৮ রানে পিছিয়ে, ট্রাভিস হেড ৯১* রানে ক্রিজে।
ঢাকা/আমিনুল