ঢাকা     বুধবার   ২৪ এপ্রিল ২০২৪ ||  বৈশাখ ১১ ১৪৩১

আমার পরাজয় হয়নি দুই মন্ত্রীর ভোট কমেছে: জাহাঙ্গীর

নিজস্ব প্রতিবেদক, গাজীপুর || রাইজিংবিডি.কম

প্রকাশিত: ১৮:১৫, ৮ জানুয়ারি ২০২৪  
আমার পরাজয় হয়নি দুই মন্ত্রীর ভোট কমেছে: জাহাঙ্গীর

জাহাঙ্গীর আলম। ফাইল ফটো।

গাজীপুর সিটি করপোরেশনের সাবেক মেয়র জাহাঙ্গীর আলমের সমর্থন পাওয়া দুই স্বতন্ত্র প্রার্থী দ্বাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে হেরে গেছেন। তারা হলেন- গাজীপুর-১ ও গাজীপুর-২ আসনের প্রার্থী। তবে, গাজীপুর-৫ আসনের স্বতন্ত্র প্রার্থী জেলা পরিষদের সাবেক চেয়ারম্যান আখতারউজ্জামান প্রায় ১৫ হাজার ভোট বেশি পেয়ে বেসরকারিভাবে জয়ী হয়েছেন নির্বাচনে। 

সোমবার (৮ জানুয়ারি) গাজীপুর সিটি করপোরেশনের সাবেক মেয়র জাহাঙ্গীর আলমের কাছে নির্বাচন বিষয়ে জানতে চাইলে তিনি সাংবাদিকদের বলেন, ‌‘আমার কোনো পরাজয় হয়নি। দুই মন্ত্রীর ভোট কমেছে। কারণ ২০১৮ সালে আওয়ামী লীগ ছিল ৮ লাখ আর এখন ২ লাখ। তারা আওয়ামী লীগকে দুর্বল করেছে। দুই মন্ত্রীর বোঝা উচিত ছিল আওয়ামী লীগের ২ লাখ লোকজন ভোট তাদের বিপক্ষে দিয়েছে।’ 

তিনি আরও বলেন, ‘২০১৮ সালের ভোটে আ ক ম মোজাম্মেল পাইছিল প্রায় ৪ লাখ ভোট। এবছর পাইছে ১ লাখ ভোট। তাহলে ৩ লাখ আওয়ামী লীগের ভোট তার থেকে সরে গেছে। জাহিদ আহসান রাসেল পাইছিল পৌনে ৫ লাখ ভোট। এবার ৩ লাখ ভোট ছুইটা গেছে। তার মানে দেখেন আওয়ামী লীগের মন্ত্রীর ভোট আওয়ামী লীগ থেকে ছুটে গেছে।’ 

প্রসঙ্গত, জাহাঙ্গীর আলম বঙ্গবন্ধুকে নিয়ে একটি বিতর্কিত বক্তব্যের জেরে প্রথমে মহানগর আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক পদ হারান। পরে মেয়র পদও হারিয়ে ফেলেন। এরপর দল তাকে সাধারণ ক্ষমা করে। পরবর্তীতে গত বছরের ২৫ মে গাজীপুর সিটি করপোরেশনের নির্বাচন অনুষ্ঠিত হয়। সেই নির্বাচনে মেয়র প্রার্থী হয়েছিলেন জাহাঙ্গীর আলম। খেলাপি ঋণ থাকার কারণে তার মনোনয়ন বাতিল করে নির্বাচন কমিশন। আপিল করেও মনোনয়ন ফিরে না পাওয়ায় তিনি তার মা জায়েদা খাতুনকে নিয়ে নির্বাচনি মাঠে নামেন। দলীয় সিদ্ধান্ত অমান্য করে নির্বাচনি মাঠে থাকায় তাকে স্থায়ীভাবে বহিষ্কার করে আওয়ামী লীগ। নিজের মনোনয়ন বাতিল, দলীয় পরিচয় হারানোর পরও মাকে নিয়ে নির্বাচনি মাঠে দৃঢ় অবস্থান নেন জাহাঙ্গীর আলম। ওই নির্বাচনে তার মা জয়লাভ করেন মেয়র হিসাবে। এরপর তাকে আবারও ক্ষমতাসীন আওয়ামী লীগ সাধারণ ক্ষমা ঘোষণা করে। 

জাহাঙ্গীর আলম তার বরখাস্তের পেছনে মুক্তিযোদ্ধ বিষয়ক মন্ত্রী আ ক ম মোজাম্মেল হক ও যুব ও ক্রীড়া প্রতিমন্ত্রী জাহিদ আহসান রাসেলের হাত ছিল বলে বিভিন্ন সময়ে দাবি করেছেন। যার কারণে তিনি এবার সংসদ নির্বাচনে নিজে প্রার্থী না হয়ে গাজীপুর-১ আসনের স্বতন্ত্র প্রার্থী রেজাউল করিম রাসেল, গাজীপুর- ২ আসনের কাজী আলীম উদ্দিন ও গাজীপুর-৫ আসনে স্বতন্ত্র প্রার্থী আখতারউজ্জামানকে সমর্থন দেন। গত ১৮ ডিসেম্বর প্রতীক বরাদ্দের পর থেকে তিনজন প্রার্থীর পক্ষে ব্যাপক প্রচার প্রচারণা চালান গাজীপুরের সাবেক এই মেয়র। কোথাও কোথাও প্রার্থীদের চেয়ে তার ভূমিকা ছিল স্বতঃর্স্ফূত। ব্যাপক সারাও ফেলেছিলেন তিনি। তার কারণে নৌকার প্রার্থী মন্ত্রী, প্রতিমন্ত্রী ও সংসদ সদস্য এক ধরনের চাপের মধ্যে ছিলেন। 

নির্বাচনের ফলাফল বিশ্লেষণ করে দেখা গেছে, গাজীপুরের ৫টি আসনের ৪টিতেই জয়লাভ করেছেন ক্ষমতাসীন আওয়ামী লীগ। ১টি আসনে নৌকার প্রার্থীকে পরাজিত করে স্বতন্ত্র প্রার্থী জয়লাভ করেছেন। তবে, গাজীপুর-৫ আসনের স্বতন্ত্র প্রার্থী হিসাবে নির্বাচিত মো. আখতাউজ্জামানের কর্মী সমর্থকরা দাবি করেন, জাহাঙ্গীর আলমের সমর্থনে নয় আকতারউজ্জামান জয়লাভ করেছেন তার অতীত কর্মজীবন ও ব্যক্তি ইমেজের কারণে। 

ফলাফল অনুয়ায়ী গাজীপুর-১ আসনের বিজয়ী হয়েছেন আ ক ম মোজাম্মেল হক। তিনি পেয়েছন ১ লাখ ৯ হাজার ২১৮ ভোট। তার নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বী রেজাউল করিম রাসেল স্বতন্ত্র পেয়েছেন ৯২ হাজার ৭৮৮ ভোট। গাজীপুর-২ আসনে বিজয়ী জাহিদ আহসান রাসেল। তিনি পেয়েছেন ১ লাখ ৪ হাজার ৪৭৬ ভোট। তার নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বী আলিম উদ্দিন পেয়েছেন ৮৪ হাজার ১২৯ ভোট। গাজীপুর-৫ আসনের বিজয়ী হয়েছেন স্বতন্ত্র প্রার্থী আখতারউজ্জামান। তিনি পেয়েছেন ৮২ হাজার ৭২০ ভোট। তার নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বী আওয়ামী লীগের বর্তমান এমপি মেহের আফরোজ চুমকি পেয়েছেন ৬৭ হাজার ৭৮৩ ভোট।

জাহাঙ্গীর আলম বলেন, ‘আমি চারটি আসনের প্রার্থীর পক্ষে ছিলাম। সেখানে দুইজন প্রার্থী হেরেছে কিন্তু অন্য দুইজন জিতেছে। আমি সিমিন হোসেন রিমির পক্ষেও ছিলাম। শুধু আলিম উদ্দিন আর রাসেল হারছে। যখন তারা এমপি ছিল তখন তাদের ভোট ছিল, মন্ত্রী হওয়ার পর তাদের ভোট কমছে। তার মানে এলাকায় সুশাসন দেয়নি, নেতাদের মূল্যায়ন করেনি। ক্ষমতায় থাকার পর ভোট কমে কি ভাবে? আমি এটা প্রমানের জন্য ভোটে স্বতন্ত্রদের সাপোর্ট দিয়েছি।’ 

রেজাউল/মাসুদ

ঘটনাপ্রবাহ

আরো পড়ুন  



সর্বশেষ

পাঠকপ্রিয়