৪০ বছর পর খুলে গেল ঢাকা মেডিকেলের সেই আমতলার গেট
বুলবুল চৌধুরী, ঢামেক প্রতিনিধি || রাইজিংবিডি.কম
প্রায় ৪০ বছর পর বৃহস্পতিবার খুলে দেওয়া হয়েছে ঢাকা মেডিকেল কলেজের আমতলা গেট, যেটি ভাষা আন্দোলনের স্মৃতি বহন করছে। ছবি: রাইজিংবিডি।
ঢাকা মেডিকেলে (ঢামেক) ভাষা আন্দোলনের স্মৃতিবিজড়িত আমতলা। বায়ান্নার ভাষা আন্দোলনের এই ঐতিহাসিক প্রাঙ্গণ ছোঁয়া মেডিকেলের সেই গেটটি প্রায় ৪০ বছর পর খুলে দিল ঢামেক কর্তৃপক্ষ।
বৃহস্পতিবার (১৫ জানুয়ারি) সকালের দিকে পূর্ব ঘোষণা ছাড়াই খুলে দেওয়া হয় গেটটি। অবশ্য সিদ্ধান্তে খুশি হাসপাতালের কর্মকর্তা-কর্মচারীরা।
ঢাকাসহ বিভিন্ন জেলা থেকে রোগী বহনকারী অ্যাম্বুলেন্সে সরাসরি একটি গেট দিয়ে প্রবেশ করায় জরুরি বিভাগের গেটের সামনে যানজট লেগেই থাকে। এখন বিকল্প গেটটি খুলে দেওেয়ায় ভোগান্তি কমবে বলে আশা করা হচ্ছে।
ঢাকা মেডিকেলে সরকারি কর্মচারীরা জানান, আগে তারা দেখেছেন গেটটি খোলা থাকত। বছর দুয়েক আগে গেটটি খুলে দেওয়া হয়েছিল। মাত্র ১৫ দিন খোলা থাকার পর অদৃশ্য কারণে আবার বন্ধ হয়ে যায়। বৃহস্পতিবার পরিচালকের নির্দেশে সকালের দিকে গেটটি খুলে দেওয়া। এখন সর্বসাধারণ এটি ব্যবহার করতে পারবে।
তারা বলেছেন, ঐতিহ্যবাহী গেটটি খুলে দেওয়ায় এখন থেকে বিভিন্ন জেলা থেকে আসা অ্যাম্বুলেন্সও প্রবেশ করতে পারবে। ফলে এক গেট দিয়ে প্রবেশ করে অ্যাম্বুলেন্সগুলো আরেক গেট দিয়ে বেরিয়ে যেতে পারবে।
ঢামেক পরিচালক ব্রিগেডিয়ার জেনারেল মোহাম্মদ আসাদুজ্জামান খান বলেন, “প্রায় ৪০ বছর গেটটি বন্ধ ছিল। বিভিন্ন জেলা থেকে রোগী নিয়ে আসা অ্যাম্বুলেন্সের সুবিধার্থে এই ব্যবস্থা নিয়েছি। এতে ঢামেকের প্রবেশ গেটের এলাকা যানজট মুক্ত থাকবে।”
ভাষা আন্দোলনের স্মৃতি টেনে ব্রিগেডিয়ার খান বলেন, ১৯৫২ সালের ২১শে ফেব্রুয়ারির এই দিনে ছাত্রসমাজ রাষ্ট্রভাষা বাংলার দাবিতে মিছিল করে ১৪৪ ধারা ভেঙে ঢাকা মেডিকেলের আমতলা থেকে এই গেট দিয়ে মিছিল নিয়ে শহীদ মিনারে যায়। দিনটি স্মরণে রেখে গেটটি খুলে দেওয়া হলো।
ঢামেক উপ-পরিচালক মোহাম্মদ আশরাফুল আলম বলেন, “আমরা দীর্ঘদিন চেষ্টার পরে বৃহস্পতিবার সকালে এই গেটটি সবার সুবিধার্থে উন্মুক্ত করতে পেরেছি। এর আগে আরো কয়েকজন পরিচালক চেষ্টা করেছিলেন, তবে তারা ব্যর্থ হন। কিছু প্রভাবশালী ডাক্তার নিজেরা দখল করে শক্তি দেখিয়ে খুলতে দেননি এতদিন। আজ আমরা হাসপাতালের সুবিধার্থে কাজটি সম্পূর্ণ করেছি। এ জন্য পরিচালক স্যারকে ধন্যবাদ জানাই।”
ঢাকা/বুলবুল/রাসেল