৪৭ আসনে জোট রক্ষার চেষ্টা, ইসলামী আন্দোলনের সংবাদ সম্মেলন শুক্রবার
ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশ ছাড়াই ২৫৩টি আসন ঘোষণা করেছে জামায়াতে ইসলামী, এনসিপিসহ ১১ দলীয় জোট। বাকি রয়েছে ৪৭ আসন এবং ইসলামী আন্দোলন, খেলাফত আন্দোলন ও জাগপাসহ মোট ৩টি দল।তিন দলের মধ্যেই এসব আসন ভাগাভাগি করে সমঝোতা করতে হবে। ইসলামী আন্দোলন একাই ৫০ আসন চেয়েছে।
১১ দলীয় জোটে ইসলামী আন্দোলনের সঙ্গে আসন ভাগাভাগি চূড়ান্ত হয়নি। দাবি দাওয়া মতো আসন না পেলে জোটে নাও থাকতে পারে দলটি। এ কারণে তারা বৃহষ্পতিবারের সংবাদ সম্মেলনে উপস্থিত হয়নি। তবে বাকি ৪৭ আসন ভাগাভাগি করে যেকোনো মূল্যে জোট ধরে রাখার সর্বশেষ চেষ্টা চলছে। জোটের নেতারা এজন্য এখনো দেন দরবার চালিয়ে যাচ্ছেন।
আসন সমঝোতাসহ এই বিষয়ে আজকের মধ্যে চূড়ান্ত হয়ে যাবে বলে জানিয়েছেন দলগুলোর নেতারা। ইতিবাচক হোক কিংবা না হোক শুক্রবার (১৬ জানুয়ারি) সকালের মধ্যে চূড়ান্ত ঘোষণা আসবে।
এদিকে, নির্বাচনি সমঝোতার বিষয়ে জরুরি সংবাদ সম্মেলন ডেকেছে ইসলামী আন্দোলন। শুক্রবার বিকেল ৩টায় দলটির কেন্দ্রীয় কার্যালয়ে সংবাদ সম্মেলন হবে।
এর আগে আসন সমঝোতার বিষয়ে চূড়ান্ত কথা বলার মতো অবস্থা এখনো আসেনি বরং এ নিয়ে বহুমাত্রিক আলোচনা চলছে বলে জানিয়েছেন ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশ। বৃহস্পতিবার দুপুরে দলটির কেন্দ্রীয় প্রচার ও দাওয়াহ সম্পাদক শেখ ফজলুল করীম মারুফ এ কথা জানান।
তিনি বলেন, “গণঅভ্যুত্থান পরবর্তী নতুন বাংলাদেশে ইসলামপন্থীদের একবক্স নীতিকে ভিত্তি করে যে রাজনৈতিক সমঝোতার পথচলা শুরু হয়েছিল তা জাতির মনে প্রত্যাশা তৈরি করেছে। সেই পথচলায় কিছুটা অস্বস্তি তৈরি হলেও সমঝোতার বিষয়ে চূড়ান্ত কিছু বলার সময় এখনো আসে নাই। নেতৃবৃন্দ বহুমাত্রিক ও বহুপাক্ষিক আলোচনা চালিয়ে যাচ্ছেন। চূড়ান্ত কিছু বলার মতো অবস্থা তৈরি হলে ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশ এবং অপরাপর দলসমূহ আনুষ্ঠানিভাবেই জাতিকে অবহিত করবেন।”
অন্যদিকে, ১১ দলীয় জোটে ইসলামী আপন্দোলন ছাড়া বাকি দলগুলোর নেতারা বসে ৪৭ আসন রেখে ভাগাভাগি চূড়ান্ত করেছেন। রাতে সংবাদ সম্মেলন করে জামায়াতের নায়েবে আমির সৈয়দ আবদুল্লাহ মোহাম্মদ তাহের কার কয়টি আসন ঘোষণা করেন।
তিনি বলেন, “আসন সমঝোতায় জামায়াত ১৭৯টি, এনসিপি ৩০টি, বাংলাদেশ খেলাফত মজলিস ২০টি, খেলাফত মজলিস ১০টি, এলডিপি ৭টি, এবি পার্টি ৩টি, বিডিপি ২টি ও নেজামে ইসলাম ২টি আসনে নির্বাচন করবে।”
১১ দলীয় জোটের এই সংবাদ সম্মেলনে চরমোনাইপীরের ইসলামী আন্দোলন ছাড়া বাকি দলগুলোর মধ্যে জামায়াতের আমির ডা. শফিকুর রহমান, এলডিপির চেয়ারম্যান কর্নেল (অব.) অলি আহমদ বীর বিক্রম, খেলাফত মজলিসের আমির মাওলানা মামুনুল হক, এনসিপির আহ্বায়ক নাহিদ ইসলাম, সদস্য সচিব নাসিরুদ্দিন পাটোয়ারি, জাগপার সভাপতি রাশেদ খান, খেলাফত মজলিশের অপর অংশের মহাসচিব ডক্টর আহমদ আব্দুল কাদেরসহ দলগুলোর নেতারা উপস্থিত ছিলেন।
ইসলামী আন্দোলনের জন্য ৪২ থেকে সর্বোচ্চ ৪৫ আর বাকি আসন খেলাফত আন্দোলন ও জাগপার জন্য রাখা হয়েছে বলে ধারণা করা হচ্ছে। তবে কাল সকালের মধ্যে আসন সমঝোতা শেষ হবে বলে জানা গেছে।
ঢাকা/নঈমুদ্দীন/সাইফ