Risingbd Online Bangla News Portal

ঢাকা     মঙ্গলবার   ১৩ এপ্রিল ২০২১ ||  চৈত্র ৩০ ১৪২৭ ||  ২৮ শা'বান ১৪৪২

ডেঙ্গুজ্বর প্রতিরোধে ভ্যাকসিন আছে কি? : পর্ব-৫

ডা. সজল আশফাক || রাইজিংবিডি.কম

প্রকাশিত: ০৬:১৯, ২৩ আগস্ট ২০১৯   আপডেট: ০৫:২২, ৩১ আগস্ট ২০২০
ডেঙ্গুজ্বর প্রতিরোধে ভ্যাকসিন আছে কি? : পর্ব-৫

ডেঙ্গুজ্বরে প্যারাসিটামল ডোজ কতটুকু?

ডেঙ্গুজ্বর এবং ডেঙ্গু হেমোরেজিক জ্বরের ক্ষেত্রে জ্বর কমানোর জন্য একমাত্র যথাযথ নিরাপদ ওষুধ হচ্ছে প্যারাসিটামল। এই প্যারাসিটামলও ব্যবহার করতে হবে সতর্কতার সঙ্গে। ডেঙ্গুজ্বরের ক্ষেত্রে বিশ্ব স্বাস্থ্য অনুমোদিত বয়স অনুসারে প্যারাসিটামলের ডোজ হচ্ছে :

এক বছরের নিচে প্রতি ডোজে ৬০মি. গ্রা.
১-৩ বছরের  ক্ষেত্রে প্রতি ডোজে ৬০-১২০ মি. গ্রা.
৩-৬ বছরের ক্ষেত্রে প্রতি ডোজে ১২০ মি. গ্রা.
৬-১২ বছরের ক্ষেত্রে প্রতি ডোজে ২৪০ মি. গ্রা.

শরীরের তাপমাত্রা ডিগ্রী ফারিনহাইট বা ৩৯ ডিগ্রী সেন্টিগ্রেড হলে বয়স অনুসারে প্রয়োজ্য প্যারাসিটামলে এক ডোজ ওষুধ রোগীকে খাওয়াতে হবে। কিন্তু ২৪ ঘণ্টার মধ্যে কোনক্রমেই ৬টি ডোজের বেশি দেয়া যাবে না।

রোগীকে প্যারসিটামল সাপোজিটরি ব্যবহারের ক্ষেত্রেও প্রতি ডোজে, প্যারাসিটামলের প্রযোজ্য মাত্রা মেনে চলতে হবে। তবে প্যারাসিটামলের পাশাপাশি জ্বর কমানোর জন্য রোগীর সারা শরীর নিংড়ানো ভেজা কাপড় বা তোয়ালে দিয়ে মুছে দিতে হবে। এরপরও যদি জ্বর না কমে তাহলে চিকিৎসকের পরামর্শ নিতে হবে। প্যারাসিটামলের মাত্রা বাড়াতে হলে অবশ্যই চিকিৎসকের পরামর্শ অনুযায়ী তা করতে হবে। জ্বর কমানোর জন্য কখনোই এসপিরিন জাতীয় ওষুধ ব্যবহার করা যাবে না। প্যারসিটামল ছাড়া জ্বর-রক্তক্ষরণের প্রবণতা বেড়ে যায় এবং এসিডোসিস দেখা দিতে পারে। তাছাড়া এসপিরিনের কারণে রাই সিনড্রোম নামক মারাত্মক অসুস্থতারও সৃষ্টি হতে পারে। সাধারণভাবে বাজারে পাপ্ত প্রতিটি প্যারাসিটামল ট্যাবলেট ৫০০ মি. গ্রা. এর হয়ে থাকে। আর প্যারাসিটামল সিরাপের ক্ষেত্রে বোতলের সঙ্গে দেয়া ১ চামচের মধ্যে ওষুধের পরিমাণ ১২০ মি. গ্রা.।

ডেঙ্গুতে অ্যান্টিবায়োটিক দরকার আছে কি?

ডেঙ্গু ভাইরাসজনিত রোগ, এতে অ্যান্টিবায়োটিকের কোনো ভূমিকা নেই। তবে ডেঙ্গুর সঙ্গে অন্য ব্যাকটেরিয়াজনিত রোগও থাকতে পারে, তখন অ্যান্টিবায়োটিকের প্রয়োজন হয়। অনেকে মনে করেন ডেঙ্গুতে অ্যান্টিবায়োটিক ক্ষতি করে, এটি ভুল ধারণা। প্রয়োজনে অ্যান্টিবায়োটিক ব্যবহারে কোনো ক্ষতি হবে না। আবার অযথা এন্টিবায়োটিক ব্যবহার করাও ঠিক নয়।

ডেঙ্গু ভাইরাস বাহিত পুরুষ কিংবা স্ত্রী উভয় এডিসই কি কামড়ের মাধ্যমে মানুষের মধ্যে এই রোগ ছড়াতে পারে? প্রাণীদের মধ্যে কি ডেঙ্গু হতে পারে? যদি হয় তাহলে ডেঙ্গু ভাইরাসের বাহক প্রাণীকে কামড়ানোর মাধ্যমে তা কি এডিসের মধ্যে সংক্রমিত হতে পারে? ডেঙ্গু ভাইরাস কি এডিস-প্রাণী-এডিস-মানুষ এই সূত্রে ছড়াতে পারে?

শুধুমাত্র ডেঙ্গু ভাইরাসবাহিত স্ত্রী প্রজাতির এডিস মশার কামড়ে ডেঙ্গু হতে পারে।  প্রাণীদের মধ্যে ডেঙ্গু ছড়ানোর কোনো রেকর্ড নাই। তাই সংক্রমতি এডিস মশার কামড়ে কোনো প্রাণী আক্রান্ত হবে, আবার সেই প্রাণীকে কামড়িয়ে নতুন কোনো এডিস স্ত্রী মশা ডেঙ্গু ভাইরাসের বাহক হবে এবং সেই মশাটি মানষকে কামড়িয়ে মানুষর মধ্যে রোগ ছড়াবে এমন আশঙ্কা নেই।

একবার ডেঙ্গুজ্বর হলে কি আবার হবে?

এত দিন ধরে সবাই জানতো ডেঙ্গু ভাইরাসের ৪টি সেরোটাইপ রয়েছে। ২০১৩ সালের এক গবেষণায় ডেঙ্গুর ৫ম সেরোটাইপ শনাক্ত করা হয়। এখন এই ৫টির মধ্যে যে কোনো ১টি সেরোটাইপ ভাইরাসে আক্রান্ত হওয়ার পর সুস্থ হয়ে গেলে ভবিষ্যতে সেই ভাইরাসটিতে আবার আক্রান্ত হওয়ার ঝুঁকি থাকে না। কিন্তু বাকি ৪টি সেরোটাইপ ভাইরাসের যে কোনোটিতে আক্রান্ত হওয়ার ঝুঁকি রয়ে যায়।

ডেঙ্গজ্বরে আক্রান্ত মা কি শিশুকে বুকের দুধ খাওয়াতে পারবেন?

কেউ কেউ মনে করেন ডেঙ্গুজ্বরে আক্রান্ত মা শিশুকে বুকের দুধ খাওয়ালে সেই শিশুটিরও হয়তো ডেঙ্গুজ্বর হবে। এ ধারণাটি ঠিক নয়। ডেঙ্গুজ্বরে আক্রান্ত মা শিশুকে বুকের দুধ খাওয়াতে পারবেন। মায়ের দুধের সঙ্গে ডেঙ্গুজ্বরের জীবাণু ভাইরাস শিশুর শরীরে যেতে পারে না। তবে শিশুটিকে যদি ডেঙ্গুভাইরাসে আক্রান্ত মশা কামড় দেয় তাহলে শিশুটিরও ডেঙ্গুজ্বর হতে পারে।

ডেঙ্গুজ্বর প্রতিরোধে প্রতিরোধকারী​ কোনো ওষুধ আছে কি?

ডেঙ্গুজ্বর প্রতিরোধে কেউ কেউ প্রতিরোধকারী ওষুধ খাইয়ে থাকেন, এতে কি আসলেই ডেঙ্গু প্রতিরোধ হয়? যদিও ডেঙ্গুজ্বর প্রতিরোধে কোনো ভ্যাকসিন নেই। তারপরও অনেকে ডেঙ্গু প্রতিরোধে বিভিন্ন ধরনের ওষুধ খেয়ে (যেমন, হোমিওপ্যাথি) থাকেন। প্রকৃতপক্ষে ডেঙ্গু প্রতিরোধে কার্যকর কোনো ওষুধ কিংবা ভ্যাকসিন এখনো আবিষ্কৃত হয়নি। সুতরাং মিথ্যে আশ্বাসে তথাকথিত সেসব ডেঙ্গু প্রতিরোধক ওষুধ খেয়ে নিজেকে অসর্তকতার মধ্যে ফেলে দেয়ার কোনো মানে হয় না।

 

রাইজিংবিডি/ঢাকা/২৩ আগস্ট ২০১৯/তারা

রাইজিংবিডি.কম

সর্বশেষ

পাঠকপ্রিয়

শিরোনাম

Bulletলকডাউন: ১৪-২১ এপ্রিল। যা যা চলবে: ১. বিমান, সমুদ্র, নৌ ও স্থল বন্দর এবং তৎসংশ্লিষ্ট অফিস। ২. পণ্য পরিবহন, উৎপাদন ব্যবস্থা ও জরুরি সেবাদানের ক্ষেত্রে এ আদেশ প্রযোজ্য হবে না ৩. শিল্প-কারখানা ৪. আইনশৃঙ্খলা এবং জরুরি পরিসেবা, যেমন, কৃষি উপকরণ (সার, বীজ, কীটনাশক, কৃষি যন্ত্রপাতি ইত্যাদি), খাদ্যশস্য ও খাদ্যদ্রব্য পরিবহন, ত্রাণ বিতরণ, স্বাস্থ্যসেবা, কোভিড-১৯ টিকা প্রদান, বিদ্যুৎ, পানি, গ্যাস/জ্বালানি, ফায়ার সার্ভিস, বন্দরগুলোর (স্থল, নদী ও সমুদ্রবন্দর) কার্যক্রম, টেলিফোন ও ইন্টারনেট (সরকারি-বেসরকারি), গণমাধ্যম (প্রিন্ট ও ইলেকট্রনিক মিডিয়া), বেসরকারি নিরাপত্তা ব্যবস্থা, ডাক সেবাসহ অন্যান্য জরুরি ও অত্যাবশ্যকীয় পণ্য ও সেবার সঙ্গে সংশ্লিষ্ট অফিসসমূহ, তাদের কর্মচারী ও যানবাহন এ নিষেধাজ্ঞার আওতা বর্হিভূত থাকবে। ৫. ওষুধ ও নিত্যপ্রয়োজনীয় দ্রব্যাদি ক্রয়, চিকিৎসা সেবা, মৃতদেহ দাফন/সৎকার ৬. খাবারের দোকান ও হোটেল-রেস্তোরাঁয় দুপুর ১২টা থেকে সন্ধ্যা ৭টা এবং রাত ১২টা থেকে ভোর ৬টা পর্যন্ত কেবল খাদ্য বিক্রয়/সরবরাহ করা যাবে। ৭. কাঁচাবাজার এবং নিত্যপ্রয়োজনীয় দ্রব্যাদি সকাল ৯টা থেকে বেলা ৩টা পর্যন্ত উন্মুক্ত স্থানে স্বাস্থ্যবিধি মেনে ক্রয়-বিক্রয় করা যাবে || যা যা বন্ধ থাকবে: ১. সব সরকারি, আধাসরকারি, সায়ত্ত্বশাসিত ও বেসরকারি অফিস, আর্থিক প্রতিষ্ঠান বন্ধ থাকবে ২. সব ধরনের পরিবহন (সড়ক, নৌ, অভ্যন্তরীণ ও আন্তর্জাতিক ফ্লাইট) বন্ধ থাকবে ৩. শপিংমলসহ অন্যান্য দোকান বন্ধ থাকবে