Risingbd Online Bangla News Portal

ঢাকা     শনিবার   ১৮ সেপ্টেম্বর ২০২১ ||  আশ্বিন ৩ ১৪২৮ ||  ০৯ সফর ১৪৪৩

‘আমি রিকশা চালাচ্ছি অথচ কেউ বুঝতো না শুটিং হচ্ছে’

আমিনুল ইসলাম শান্ত || রাইজিংবিডি.কম

প্রকাশিত: ১৫:২৫, ২৩ জুলাই ২০২১   আপডেট: ১৫:৩৯, ২৩ জুলাই ২০২১
‘আমি রিকশা চালাচ্ছি অথচ কেউ বুঝতো না শুটিং হচ্ছে’

অভিনয়ের হাতেখড়ি শৈশবে হলেও এই মাধ্যমে নিয়মিত ছিলেন না নভেরা রহমান। তবে রুবাইয়াত হোসেন পরিচালিত ‘মেড ইন বাংলাদেশ’ এবং অমিতাভ রেজা চৌধুরী পরিচালিত ‘রিকশা গার্ল’ তাকে দ্রুত পরিচিতি এনে দেয়। এ দুটি চলচ্চিত্রে কাজ করতে গিয়ে নিজেকে নতুনভাবে তৈরি করতে হয়েছিল তাকে। রাইজিংবিডির জ্যেষ্ঠ সহ-সম্পাদক আমিনুল ইসলাম শান্তকে তিনি শুনিয়েছেন এই গল্প।

রাইজিংবিডি: অর্থনীতিবিদ হতে চেয়ে কেন অভিনেত্রী হলেন?

নভেরা: অর্থনীতি বিষয়ে পড়াশোনার জন্য বিদেশ গিয়েছিলাম। ডেভেলপমেন্ট নিয়ে কাজ করার ইচ্ছা ছিল। কিন্তু পড়তে গিয়ে ওখানে একটা থিয়েটারের সঙ্গে যুক্ত হয়ে যাই। মূলত কানাডায় থিয়েটারের একটি ক্লাশ করেছিলাম। এই ক্লাশ করার পরই মূলত উপলদ্ধি করি- আমি অভিনয়টা ভালোবাসি। এরপর অর্থনীতি বিষয়ে পড়াশোনা শেষ করা হয়নি। বরং থিয়েটারের উপর ডিপ্লোমা ডিগ্রি নিয়ে দেশে ফিরে আসি। তাছাড়া আমি ছোটবেলা থেকেই অভিনয় করি। আমার মা মোমেনা চৌধুরী অভিনেত্রী। সেখান থেকেই মূলত অভিনয় জগতে পা রাখা। 

রাইজিংবিডি: কানাডায় বনে-জঙ্গলে ঘুরে ঘুরে থিয়েটার করেছেন, সেই অভিজ্ঞতা জানতে চাই। 

নভেরা: ওখানে শেক্সপিয়ার কোম্পানির সঙ্গে যুক্ত হই। তারা মূলত আমাকে হায়ার করে। ওখানে অভিনয়, গান গাওয়া, কস্টিউম নিয়ে কাজ করেছি। শেক্সপিয়ারের সব নাটক নিয়ে কাজ করতে হয়েছে আমাকে। আমাদের স্টাইলটা ছিল এনভায়রনমেন্টাল থিয়েটার। অর্থাৎ প্রকৃতির  সঙ্গে মিলে গিয়ে পারফর্ম করতে হবে। এই অভিজ্ঞতা ছিল অসাধারণ!পারফর্ম করতে গিয়ে গাছেও উঠতে হয়েছে।

রাইজিংবিডি: ‘মেড ইন বাংলাদেশ’ সিনেমায় গার্মেন্টসকর্মীর চরিত্রে কাজ করেছেন। এই চরিত্রের জন্য নিজেকে কীভাবে তৈরি করেছিলেন?

নভেরা: অনেক ধরনের প্রশিক্ষণের মধ্য দিয়ে আমাদের যেতে হয়েছে। গার্মেন্টস ফ্যাক্টরিতে এক মাস মেশিন চালানো শিখেছি। আমাদের মুভমেন্ট যাতে ন্যাচারাল হয় এ জন্য এসব কাজ শিখে নিতে হয়েছিল। ওজনও বাড়াতে হয়েছে। সকালে সালোয়ার কামিজ পরে অন্য গার্মেন্টসকর্মীদের সঙ্গে হেঁটে ফ্যাক্টরিতে যেতাম। এমনো হয়েছে, আমি গেটে চলে গেছি, দাড়োয়ান ঝারি দিয়ে বলতো—‘গেটে দাঁড়ায় আছো কেন, ঢুকতেছো না কেন?’ মূলত দাড়োয়ান বুঝতে পারে নাই আমরা গার্মেন্টসকর্মী না। এক মাসের মধ্যে শারীরিক ও মানসিক পরিবর্তন আনতে হয়েছিল। ওজন বাড়ানোর সময়ে অনেক ভাত-ডাল খেতাম। চরিত্রের প্রয়োজনে শরীরের রং কালো করতে হয়েছে।

রাইজিংবিডি: অমিতাভ রেজা চৌধুরীর ‘রিকশা গার্ল’ সিনেমায় কীভাবে যুক্ত হলেন?

নভেরা: ‘রিকশা গার্ল’ আসলে মেড ইন বাংলাদেশেরই একটি রেজাল্ট। মূলত রুবায়েত আপু আমাকে অমিতাভ ভাইয়ের কাছে তুলে ধরেছিলেন। কিন্তু রিকশা গার্লের নাঈমা চরিত্রের জন্য আমার বয়সটা ঠিক ছিল না। কারণ এই চরিত্রের বয়স আরো কিছুটা কম ছিল। অনেকবার আমার অডিশন হয়েছে। অডিশনে আমাকে রিকশা চালাতে দেয়া হয়েছিল। কিন্তু আমার সমস্ত শক্তি দিয়েও রিকশা নাড়াতে পারছিলাম না। শারীরিকভাবে এতটাই দুর্বল ছিলাম।

রাইজিংবিডি: রিকশা চালানো শেখার অভিজ্ঞতা জানতে চাই। 

নভেরা: শুরুতে আমাকে ট্রেইনার দেওয়া হয়েছিল। সিনেমার গল্পে যাত্রী নিয়ে আসল রিকশা চালিয়েছি। এখানে কারচুপির কোনো উপায় নাই। ঢাকার পথে রিকশা চালাতে হয়েছে। এ জন্য শারীরিকভাবে স্ট্রং হতে হয়। এক মাস স্ট্রেংথ ট্রেইনিং করেছি। প্রতিদিন ভাড়া করা একটা রিকশা নিয়ে নিকেতনে চালাতাম। এই অভিজ্ঞতা অনেক মজার ছিল। প্রথমে যখন প্রশিক্ষণ নিচ্ছিলাম, তখন একটা টেস্ট শুটে গিয়েছিলাম। তখন ছেলেদের পোশাক পরেছিলাম। আমরা বোঝার চেষ্টা করছিলাম মানুষ গ্রহণ করে কিনা। কিন্তু আনন্দের বিষয় হলো মানুষ এটা গ্রহণ করেছে। কোনো মানুষ আমার দিকে দুইবার তাকায়নি। খালি পায়ে রাস্তায় হেঁটে বেরিয়েছি, ফুটপাতে ঘুমিয়েছি, সালাদিয়া হোটেলে রিকশা চালকদের সঙ্গে ভাত খেয়েছি। এসব অভিজ্ঞতা অন্যরকম ছিল!

রাইজিংবিডি: রিকশা চালক হিসেবে না জানিয়ে যাত্রী বহন করেছিলেন?

নভেরা: হ্যাঁ, করেছি। শুটিংয়ের সময় এটা অনেকবার হয়েছে। একজনকে রিকশায় নিয়ে গন্তব্যে নামিয়ে দিয়েছি, আবার আরেকজনকে উঠিয়েছি। আমাদের গেরিলা শুটিং হয়েছে। কেউ জানে না শুটিং হচ্ছে। আমি রিকশা চালাচ্ছি। কোনো একটা গাড়ির ভেতরে ক্যামেরা লুকিয়ে শুট করেছে। আমি পরিচালকের সঙ্গে কোনো কথাও বলতে পারি নাই। সাধারণ মানুষও এটা বুঝতে পারেননি। কোনো যাত্রী আমার রিকশায় যেতে চাইলে আমি তাকে উঠিয়ে নিয়ে গন্তব্যে পৌঁছে দিতাম। তবে খুব বেশি দূরত্বে যেতে হয়নি। নিউ মার্কেট মোড় থেকে একজন যাত্রী তুলেছিলাম তিনি আমাকে ২০ টাকা ভাড়া দিয়েছিলেন।

রাইজিংবিডি: পরিচালক অমিতাভ রেজা চৌধুরীর সঙ্গে কাজের অভিজ্ঞতা জানতে চাই।

নভেরা: তিনি খুবই মজার মানুষ। তার সঙ্গে কাজের অভিজ্ঞতা খুব ভালো। কারণ কাজের বিষয়ে কোনো চাপ ছিল না। কোনোরকম চাপ অনুভব করিনি। 

রাইজিংবিডি: অভিনয় ক্যারিয়ার নিয়ে পরিকল্পনা জানতে চাই।

নভেরা: আমার কোনো পরিকল্পনা নাই। এত দূর এসেছি কোনোরকম পরিকল্পনা ছাড়া। আসলে অভিনয় থেকে খুব একটা আশা নাই। আমি আসলে অনেক ধরনের কাজ করতে পছন্দ করি। অভিনয় তার মধ্যে একটা। পরিকল্পনা হচ্ছে, কম কাজ করব কিন্তু ভালো কাজ করব। আর প্রোডিউসিং নিয়ে আরো বেশি ভাবছি। এটাকেই পেশা হিসেবে নিতে চাই।

রাইজিংবিডি: ঈদুল আজহা কেমন কাটলো? 

নভেরা: ভালো। আমি রান্নাবান্না করতে খুব পছন্দ করি। সুযোগ পেলেই রান্না করি। গত চার পাঁচ বছর ধরে ঈদে বাসায় আমি রান্না করছি। তবে এ বছর আমরা কোরবানি দেইনি। পুরো টাকা দান করে দিয়েছি।              
  

ঢাকা/তারা

সর্বশেষ

পাঠকপ্রিয়