ঢাকা     শনিবার   ৩০ মে ২০২৬ ||  জ্যৈষ্ঠ ১৬ ১৪৩৩ || ১৩ জিলহজ ১৪৪৭ হিজরি

Risingbd Online Bangla News Portal

গলায় মাংসের হাড় আটকে গেলে করণীয়

লাইফস্টাইল ডেস্ক || রাইজিংবিডি.কম

প্রকাশিত: ১০:১৪, ২৯ মে ২০২৬   আপডেট: ১০:২১, ২৯ মে ২০২৬
গলায় মাংসের হাড় আটকে গেলে করণীয়

ছবি: চ্যাটজিপিটির সাহায্যে তৈরি

গলায় কোরবানির মাংস আটকে গুরুতর অসুস্থ হয়ে প্রাণ হারিয়েছে আঁখি নামের ১১ বছর বয়সী এক কিশোরী। এমন দুর্ঘটনা যেকোনো বয়সেই ঘটতে পারে। তবে শিশু ও বয়োজ্যেষ্ঠদের ক্ষেত্রে ঝুঁকি তুলনামূলক বেশি। তাই সবারই সতর্ক থাকা জরুরি। বিশেষ করে খাওয়াদাওয়ার সময় সামান্য অসাবধানতাও বড় দুর্ঘটনার কারণ হতে পারে। আকস্মিক দুর্ঘটনায় কী করতে হবে, সে বিষয়েও আগে থেকেই ধারণা রাখা প্রয়োজন। 

খাবার খাওয়ার সময় যেসব বিষয়ে সতর্ক থাকবেন
পরিবার বা প্রিয়জনদের সঙ্গে খাওয়ার সময় গল্প-আড্ডা চলতেই পারে। তবে মুখে খাবার নিয়ে কথা বলা একেবারেই উচিত নয়। এতে মাংসের হাড় বা খাবারের ছোট অংশ গলায় আটকে যেতে পারে। কখনো কখনো খাবার শ্বাসনালিতেও চলে গিয়ে মারাত্মক বিপদের সৃষ্টি করতে পারে।

আরো পড়ুন:

ধীরে-সুস্থে ও মনোযোগ দিয়ে খাওয়া ভালো
খাওয়ার সময় তাই ধীরে-সুস্থে ও মনোযোগ দিয়ে খাওয়া উচিত। তাড়াহুড়া করে কিংবা একসঙ্গে বেশি খাবার মুখে দেওয়া ঠিক নয়। বিশেষভাবে সতর্ক থাকতে হবে হাড়যুক্ত খাবার খাওয়ার সময়।

শিশু ও বয়োজ্যেষ্ঠদের খাবার পরিবেশনের আগে ভালোভাবে দেখে নিতে হবে খাবারে কোনো ছোট হাড় বা কাঁটা আছে কি না। তেহারি বা মাংসজাত খাবার হাতে পরীক্ষা করে হাড় থাকলে তা সরিয়ে দেওয়াই নিরাপদ।

গলায় হাড় আটকে গেলে করণীয়

কাশি দেওয়ার চেষ্টা করুন: হালকা কাশি দেওয়ার চেষ্টা করুন। এতে অনেক সময় ছোট হাড় সরে যায়। তবে খুব জোরে বা আতঙ্কিত হয়ে চেষ্টা করবেন না।

পানি পান করুন: অল্প অল্প করে পানি পান করতে পারেন।  
এতে আটকে থাকা হাড় নিচে নেমে যেতে পারে। তবে গিলতে খুব কষ্ট হলে জোর করে পানি খাবেন না।

নরম খাবার খেতে পারেন: অনেকে নরম ভাত, কলা বা পানিতে ভেজানো রুটি অল্প করে খান। এতে হাড়টি নিচে নেমে যেতে পারে। 

কিছুক্ষণ অপেক্ষা করুন: অনেক সময় গলায় হাড়ের আঁচড় লাগলেও মনে হয় কিছু আটকে আছে। কয়েক ঘণ্টার মধ্যে অস্বস্তি কমে যেতে পারে।

যা করবেন না: হাড় আটকে গেলে গলার ভেতর আঙুল ঢুকিয়ে হাড় বের করার চেষ্টা করবেন না। এতে গলার ভেতরে ক্ষত তৈরি হতে পারে এবং হাড় আরও গভীরে আটকে যেতে পারে।

একইভাবে শুকনা ভাত বা বড় খাবারের দলা জোর করে গিলে ফেলার অভ্যাসও ঝুঁকিপূর্ণ। বিশেষ করে শিশুদের ক্ষেত্রে ঘরোয়া ঝুঁকিপূর্ণ পদ্ধতি ব্যবহার না করাই ভালো।

কখন হাসপাতালে যাবেন?
কিছু লক্ষণ দেখলে দেরি না করে দ্রুত হাসপাতালে যেতে হবে। শ্বাস নিতে কষ্ট হওয়া, কথা বলতে না পারা, লালা গিলতে সমস্যা হওয়া, বুকে ব্যথা, অতিরিক্ত কাশি বা দম বন্ধ লাগা এবং মুখ নীলচে হয়ে যাওয়ার মতো সমস্যা দেখা দিলে চিকিৎসকের কাছে যান। চিকিৎসকেরা প্রয়োজন হলে এন্ডোস্কোপি করতে পারেন, এর এর মাধ্যমে হাড় বের করেন। সময়মতো চিকিৎসা না নিলে খাদ্যনালিতে ক্ষত বা সংক্রমণও হতে পারে।

ঢাকা/লিপি

সম্পর্কিত বিষয়:

সর্বশেষ

পাঠকপ্রিয়