ঢাকা     শনিবার   ১৭ জানুয়ারি ২০২৬ ||  মাঘ ৩ ১৪৩২

Risingbd Online Bangla News Portal

নাগরিক শোকসভায় খালেদা জিয়ার মানসিকতা ধারণের আহ্বান বিশিষ্টজনদের

নিজস্ব প্রতিবেদক || রাইজিংবিডি.কম

প্রকাশিত: ২২:০৪, ১৬ জানুয়ারি ২০২৬   আপডেট: ২২:১১, ১৬ জানুয়ারি ২০২৬
নাগরিক শোকসভায় খালেদা জিয়ার মানসিকতা ধারণের আহ্বান বিশিষ্টজনদের

শুক্রবার বিকেলে জাতীয় সংসদ ভবনের দক্ষিণ প্লাজায় ‘অপরাজেয় বেগম খালেদা জিয়া’ শীর্ষক নাগরিক শোকসভা হয়

সাবেক প্রধানমন্ত্রী ও বিএনপির চেয়ারপারসন বেগম খালেদা জিয়ার স্মরণে আয়োজিত নাগরিক শোকসভায় বিশিষ্টজনেরা তাকে একজন অপরাজেয়, মমতাময়ী ও আপসহীন নেত্রী হিসেবে অভিহিত করেছেন। দেশের সব রাজনীতিককে বেগম খালেদা জিয়ার মানসিকতা ধারণ করার আহ্বান জানিয়েছেন তারা।

শুক্রবার (১৬ জানুয়ারি) বিকেলে জাতীয় সংসদ ভবনের দক্ষিণ প্লাজায় ‘অপরাজেয় বেগম খালেদা জিয়া’ শীর্ষক এ নাগরিক শোকসভা হয়।

আরো পড়ুন:

বক্তারা খালেদা জিয়ার দীর্ঘ রাজনৈতিক সংগ্রাম, চারিত্রিক দৃঢ়তা ও নেতৃত্ব গুণের ভূয়সী প্রশংসা করেন। তারা বলেন, দীর্ঘ সময় কারাবাস ও রাষ্ট্রীয় নিপীড়নের শিকার হলেও বেগম খালেদা জিয়া কখনো প্রতিহিংসার রাজনীতি বেছে নেননি। বরং ২০২৪ সালের গণ-অভ্যুত্থানের পর তার সর্বশেষ ভাষণে তিনি যে উদারতা, সহমর্মিতা ও জাতীয় ঐক্যের আহ্বান জানিয়েছিলেন, তা আগামীর বাংলাদেশ নির্মাণে গুরুত্বপূর্ণ দৃষ্টান্ত হয়ে থাকবে।

দৈনিক যায়যায়দিন পত্রিকার সম্পাদক শফিক রেহমান আসন্ন ১২ ফেব্রুয়ারির জাতীয় নির্বাচন প্রসঙ্গে আশাবাদ প্রকাশ করে বলেছেন, খালেদা জিয়ার প্রতি প্রকৃত শ্রদ্ধা জানানো হবে তখনই, যখন দেশের মানুষ উৎসবমুখর পরিবেশে ভোট দিয়ে তাদের ভোটাধিকার পুনরুদ্ধার করতে পারবে।

ডেইলি নিউ এজের সম্পাদক নূরুল কবীর বলেন, রাজনৈতিক প্রতিপক্ষের ভয়াবহ নির্যাতনের মুখেও বেগম খালেদা জিয়া কখনো কুরুচিপূর্ণ বা বিদ্বেষমূলক বক্তব্য দেননি। তার পরিমিতিবোধ, রুচিশীলতা ও রাজনৈতিক শালীনতা দেশের রাজনীতিতে অনন্য দৃষ্টান্ত হয়ে থাকবে।

শহীদ প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমান ও খালেদা জিয়ার রাজনৈতিক উত্তরসূরি হিসেবে বিএনপির চেয়ারম্যান তারেক রহমানের ওপর ন্যস্ত দায়িত্ব ও চ্যালেঞ্জের কথা তুলে ধরেন দৈনিক আমার দেশ পত্রিকার সম্পাদক মাহমুদুর রহমান। 

তিনি বলেন, জিয়া দম্পতি বাংলাদেশের ইতিহাসে এমন এক বিরল জনপ্রিয় রাজনৈতিক যুগল, যারা জীবনের শেষ দিন পর্যন্ত মানুষের হৃদয়ে শীর্ষস্থান দখল করে রেখেছেন।

শোকসভায় দ্য ডেইলি স্টারের সম্পাদক মাহফুজ আনাম খালেদা জিয়ার রাজনৈতিক মহানুভবতার কথা স্মরণ করে বলেন, বছরের পর বছর কারাবন্দি থাকা এবং পর্যাপ্ত চিকিৎসা না পাওয়ার যন্ত্রণা সত্ত্বেও তার মনে কোনো বিদ্বেষ জন্ম নেয়নি। 

তিনি বলেন, “৭ আগস্টের বাণীতে তিনি ধ্বংসের বিপরীতে শান্তি ও ঐক্যের যে বার্তা দিয়েছেন, তা শুধু বাংলাদেশের নয়, বিশ্ব রাজনীতির ইতিহাসেও বিরল।”

গবেষক মহিউদ্দিন আহমেদ খালেদা জিয়ার জীবনকে ত্যাগ, সংগ্রাম ও উত্থানের এক মহাকাব্য হিসেবে বর্ণনা করেন। তিনি বলেন, আশির দশকে বিএনপিকে যেভাবে তিনি সুসংগঠিত করেছিলেন, তা তাকে ইতিহাসে ‘আপসহীন নেত্রী’ হিসেবে চিরস্মরণীয় করে রেখেছে। অন্যের অধিকার রক্ষায় তার নিঃস্বার্থ আত্মত্যাগ বর্তমান প্রজন্মের রাজনৈতিক কর্মীদের জন্য বড় অনুপ্রেরণা।

অন্তর্বর্তী সরকারের আইন, বিচার ও সংসদবিষয়ক উপদেষ্টা অধ্যাপক ড. আসিফ নজরুল বলেন, বেগম খালেদা জিয়ার সততা ও দেশপ্রেম ছিল প্রশ্নাতীত। 

সাবেক প্রধান বিচারপতি সৈয়দ জে আর মোদাচ্ছির হোসেনের সভাপতিত্বে শোকসভায় বিএনপির চেয়ারম্যান তারেক রহমান, ডা. জুবাইদা রহমান, জাইমা রহমান, প্রয়াত আরাফাত রহমান কোকোর স্ত্রী শামিলা রহমানসহ খালেদা জিয়ার পরিবারের সদস্যরা উপস্থিত ছিলেন।

শোকসভা সঞ্চালনা করেন আশরাফ কায়সার ও কাজী জেসিন। এতে দেশের বিশিষ্ট নাগরিক, গবেষক, চিকিৎসক, শিক্ষক, ধর্মীয় নেতা, পাহাড়ি জনগোষ্ঠীর প্রতিনিধি এবং বিভিন্ন পেশাজীবী নেতা অংশ নেন।

ঢাকা/আলী/রফিক

সর্বশেষ

পাঠকপ্রিয়