ঢাকা     রোববার   ০৫ এপ্রিল ২০২৬ ||  চৈত্র ২৩ ১৪৩২ || ১৭ শাওয়াল ১৪৪৭ হিজরি

Risingbd Online Bangla News Portal

রাজশাহীতে হামের চিকিৎসা দিতে প্রস্তুত ২ হাসপাতাল

রাজশাহী সংবাদদাতা || রাইজিংবিডি.কম

প্রকাশিত: ০৯:৩০, ৩ এপ্রিল ২০২৬   আপডেট: ০৯:৩৭, ৩ এপ্রিল ২০২৬
রাজশাহীতে হামের চিকিৎসা দিতে প্রস্তুত ২ হাসপাতাল

রামেক হাসপাতালে হামের উপসর্গ নিয়ে ভর্তি হচ্ছে শিশুরা

রাজশাহী বিভাগে হামে আক্রান্ত হয়ে ১৫ জনের মৃত্যু হয়েছে বলে জানিয়েছে স্বাস্থ্যসেবা বিভাগ। রাজশাহী মেডিকেল কলেজ (রামেক) হাসপাতালে বাড়ছে এই রোগের উপসর্গ নিয়ে শিশু ভর্তির সংখ্যা। এই হাসপাতালে এখন পর্যন্ত চিকিৎসা নিচ্ছেন ৩৪০ জন শিশু। রোগী সামলাতে হিমশিম খেতে হতে হচ্ছে চিকিৎসক ও নার্সদের।

হামের চিকিৎসা দিতে প্রস্তুত থাকার কথা জানিয়েছে আরো দুটি হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ। যার মধ্যে একটি সরকারি ও আরেকটি সিটি করপোরেশনের অধীনে।  

আরো পড়ুন:

রামেক হাসপাতালে গেল তিনদিনে হাম উপসর্গে তিন শিশুর মৃত্যু হয়েছে। বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার (ডব্লিউএইচও) সহায়তায় ল্যাবরেটরিতে পরীক্ষা করা ৩৩টি নমুনার মধ্যে ১৫ জনের মৃত্যুর সঙ্গে হামের সংক্রমণের সরাসরি সম্পর্ক পাওয়া গেছে জানিয়েছেন রাজশাহী বিভাগীয় স্বাস্থ্য পরিচালক মো. হাবিবুর রহমান। এসব মৃত্যুর ঘটনা রাজশাহী অঞ্চলে বেশি হওয়ায় বিশেষ নজরদারি জোরদার করেছে স্বাস্থ্য বিভাগ।

হামের চিকিৎসা দেওয়ার জন্য প্রস্তুত আছে রেলওয়ে হাসপাতাল। গেল অক্টোবর মাসে এই হাসপাতাল সর্বসাধারণের জন্য উন্মুক্ত করা হয়েছে। এরপর এই হাসপাতালের নাম রাজশাহী জেনারেল রেলওয়ে হাসপাতাল করা হয়েছে।

হাসপাতালটিতে চারজন চিকিৎসক, একজন মেডিক্যাল টেকনোলজিস্ট (ল্যাব) এবং ১০ জন নার্স আছে। এছাড়াও হাসপাতালটিতে ২০টি শয্যা আছে।

পশ্চিমাঞ্চল রেলওয়ের প্রধান চিকিৎসা কর্মকর্তা ডা. আনিছুল হক বলেন, ‍“সরকার চাইলে অবশ্যই আমরা হামের চিকিৎসা দেব। আমাদের এই হাসপাতালও সরকারি। এখন সাধারণ মানুষের চিকিৎসা দেওয়া হচ্ছে। ১০ টাকায় টিকিট কেটে চিকিৎসাসেবা দেওয়া হচ্ছে। এর আগে করোনার সময়ও আমরা হাসপাতাল প্রস্তুত রেখেছিলাম। পরে প্রয়োজন হয়নি। এখন আমরা প্রস্তুতি নিয়ে রাখছি। হামের রোগের চিকিৎসক আমাদের নেই। সরকারকে চিকিৎসক দেওয়া লাগবে।”

রাজশাহী নগরীর রাণীনগরে অবস্থিত রাজশাহী সিটি করপোরেশন পরিচালিত সিটি হাসপাতাল। এই হাসপাতালটি গরীবের হাসপাতাল নামেই পরিচিত। এখানে প্রসূতি মা, ফ্যামিলি প্ল্যানিং, শিশু স্বাস্থ্য, কিশোর-কিশোরী স্বাস্থ্যসেবা দেওয়া হয়ে থাকে। হাসপাতালটি বর্হিবিভাগ চালু আছে। শয্যা থাকলেও হাসপাতালটি পুরোপুরি ভাবে চালু হয়নি।

রাজশাহী সিটি করপোরেশনের প্রধান স্বাস্থ্য কর্মকর্তা ডা. এফ এ এম আঞ্জুমান আরা বেগম বলেন, “আমাদের এই হাসপাতালটিতে মূলত প্রসূতি মা ও শিশুদের সেবা দেওয়া হয়। হাম আক্রান্ত অনেক শিশুই আসছেন আমাদের এখানে। আমরা দেরি না করে তাদের রামেক হাসপাতালে পাঠিয়ে দিচ্ছি। হামের চিকিৎসা দেওয়ার জন্য আমাদের এখানে চিকিৎসক প্রয়োজন। এগুলো দেখাশোনা করার দরকার সংক্রমক ব্যাধি হাসপাতালের। তারা যদি এগুলো দেখতো তাহলে রামেক হাসপাতালে চাপ পড়তো না।”

তিনি বলেন, “স্বাস্থ্য বিভাগ আমাদের জানালে আর চিকিৎসক দিলে আমরা হামের চিকিৎসা শুরু করতে পারব। মহানগরীতে হামের সংক্রমণ কম। বিভিন্ন উপজেলা থেকে হাসপাতালে রোগী আসছে। আমাদের এখানে কম আসছে। গেল কয়েক বছরে আমরা হামের টিকা শতভাগই দিয়েছি।”     

রামেক হাসপাতালে হাম উপসর্গে ১০ বছরের শিশুও মারা যাচ্ছে। গত মঙ্গলবার ফাহিমা খাতুন নামের ১০ বছর বয়সী এক শিশু মারা গেছেন। তার বাড়ি চাঁপাইনবাবগঞ্জ জেলার শিবগঞ্জ উপজেলায়।

রামেক হাসপাতালের শিশু বিভাগের প্রধান ডা. শাহীদা ইয়াসমিন জানান, ফাহিমাকে হামের টিকা দেওয়া হয়েছিল কিনা, সে বিষয়ে নিশ্চিত তথ্য দিতে পারেননি পরিবারের সদস্যরা। একই উপজেলার ৯ বছর বয়সী আরেক শিশু হামের উপসর্গ নিয়ে হাসপাতালে ভর্তি হয়েছিল। তার কেস স্টাডিতে দেখা গেছে, সে হামের প্রথম ডোজ টিকা নিয়েছিল, তবে দ্বিতীয় ডোজ নেয়নি।

তিনি বলেন, “ছয় থেকে ১০ বছর বয়সী যেসব শিশু হামের উপসর্গ নিয়ে হাসপাতালে আসছে, তাদের মধ্যে অধিকাংশেরই টিকা নেওয়া নেই বা একটি ডোজ নেওয়া হলেও পূর্ণ ডোজ সম্পন্ন হয়নি। দুই ডোজ টিকা নেওয়ার পরও কেউ আক্রান্ত হয়েছে কিনা- সে বিষয়ে এখনো নিশ্চিত তথ্য পাওয়া যায়নি। এ নিয়ে গবেষণা দল কাজ করছে, তাদের প্রতিবেদন এখনো পাওয়া যায়নি।”

তিনি আরো বলেন, “জাতীয় টিকাদান কর্মসূচি অনুযায়ী, শিশুদের ছয় মাস ও ১৫ মাস বয়সে দুটি ডোজ টিকা দেওয়া হয়। তবে, এবার ছয় মাস বয়সের আগেই উল্লেখযোগ্য সংখ্যক শিশু হামে আক্রান্ত হচ্ছে, যা মোট আক্রান্তের অর্ধেকেরও বেশি। ছয় বছরের বেশি বয়সী শিশু এবং ছয় মাসের নিচের শিশুদের উপসর্গেও পার্থক্য দেখা যাচ্ছে। ফলে বিষয়টি নিয়ে আরো গভীর গবেষণার প্রয়োজন রয়েছে।”

শাহীদা ইয়াসমিন বলেন, “৩০ মার্চ স্বাস্থ্য বিভাগের তিন সদস্যের একটি গবেষণা দল রাজশাহীতে দুই দিন কাজ করেছে। তাদের প্রতিবেদন হাতে পেলে এবারের হামের ধরণ সম্পর্কে স্পষ্ট ধারণা পাওয়া যাবে।”

রাজশাহী বিভাগীয় স্বাস্থ্য পরিচালক মো. হাবিবুর রহমান বলেন, “এবারের প্রাদুর্ভাবে শিশুদের পাশাপাশি অল্পসংখ্যক প্রাপ্তবয়স্ক রোগীও শনাক্ত হয়েছে। আক্রান্তদের বেশিরভাগই ৯ মাসের কম বয়সী শিশু। চলমান গবেষণার মাধ্যমে এবারের হামের প্রকৃতি নির্ধারণের চেষ্টা চলছে। বিভিন্ন জেলায় কাজ করা গবেষণা দলের প্রতিবেদন পাওয়া গেলে পরিস্থিতি সম্পর্কে বিস্তারিত জানা যাবে।”

রামেক হাসপাতালের মুখপাত্র শংকর কুমার বিশ্বাস বলেন, “হামের নিশ্চিত পরীক্ষার ফল পেতে সময় লাগায় আপাতত সব রোগীকেই ‘সাসপেক্টেড’ হিসেবে ধরা হচ্ছে। কারণ রাজশাহীতে দ্রুত এ পরীক্ষা করার সুযোগ নেই। তাই হামে আক্রান্ত কত শিশু মারা গেল তা নিশ্চিতভাবে বলা যাচ্ছে না।”

ঢাকা/মাহী/মাসুদ

সম্পর্কিত বিষয়:

সর্বশেষ

পাঠকপ্রিয়